৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জরুরি

দেশে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতিল ইলেকট্রনিকস যন্ত্র থেকে সৃষ্ট বর্জ্য বা ই-বর্জ্যরে পরিমাণ। এ থেকে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ। গতকাল ভোরের কাগজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ই-বর্জ্য নিয়ে এক রকম বিপদেই আছে এশিয়ার দেশগুলো। ২০২০ সালে জাতিসংঘের প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে ৫২ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন ই-বর্জ্য তৈরি হয়েছিল। সেগুলোর মাত্র ৫ ভাগের এক ভাগ রিসাইকেল করা হয়। ২০১৯ সালে বিশ্বে যত ইলেকট্রনিকস বর্জ্য তৈরি হয়েছিল; সেগুলোর ওজন ইউরোপের সব পূর্ণবয়স্ক মানুষের চেয়েও বেশি। আবার বর্জ্যগুলো এক সারিতে রাখলে তা ৭৫ মাইলের চেয়েও দীর্ঘ হতো। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০৩০ সালে বিশ্বে ই-বর্জ্য হবে ৭২ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-বর্জ্য পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির নতুন এক আতঙ্ক। মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য এই ই-বর্জ্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-বর্জ্যরে ঝুঁকি কমাতে সরকার ২০২১ সালে ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা’ তৈরি করলেও এর প্রয়োগ নেই। এ সমস্যা সমাধানের ভালো একটি উপায় রিসাইক্লিং। রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে অন্যান্য বর্জ্য সমস্যা যেভাবে সমাধান করা হয়, সেভাবেই ই-বর্জ্যরে পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ই-বর্জ্য প্রসঙ্গে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) প্রকল্পের অধীনে একটি ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ করা হবে। সূত্র থেকে আরো জানা যায়, গাজীপুরে দেশের প্রথম ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নির্মাণ হচ্ছে। পরিবেশসংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বেস্ট প্রকল্পের কাজ চলমান। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের চতুর্থ কম্পোনেন্টের অধীনে নির্মিত হবে এই প্লান্ট। এজন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ই-বর্জ্যরে ক্ষতিকর ভারি ধাতু ও রাসায়নিক মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করছে। ছড়াচ্ছে ক্ষতিকর রেডিয়েশন। যা পরিবেশের ক্ষতি করে। ফলে মাটি, গাছপালা, ফসল ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সিসা ও পারদের মতো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ খোলা জায়গায় ফেলে রাখার কারণে মানুষের ত্বকের বিভিন্ন রোগ, কিডনি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র¿, স্নায়ুতন্ত্র, যকৃৎ, মায়েদের স্তন ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে। অটিজম ও মানসিক বিকাশ না হওয়ার একটি কারণও এটি। ই-বর্জ্য শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে। দেশে যে পরিমাণ ই-বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে সে পরিমাণ বর্জ্য রিসাইক্লিনিং করা যাচ্ছে না। সরকারের একার পক্ষে এটি করা সম্ভব নয়। সরকারি ও বেসরকারি পার্টনারশিপে যেতে হবে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে আধুনিক উপায়। আমাদের মনে রাখতে হবে, ই-বর্জ্য শতভাগ রিসাইকেল হবে না। যেগুলো রিসাইকেল হবে না; সেই বর্জ্যগুলোর কী হবে সেটিও ভাবতে হবে। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের অভাব এবং এর জন্য যে প্রযুক্তিগত দিকটি থাকা দরকার সেটিও আমাদের নেই। সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ই-বর্জ্য দূষণ রোধে নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রশাসনের কঠোরতা নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিকর দিকগুলো উপস্থাপনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়াও জরুরি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়