৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে

কোনোভাবেই নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে এখন বাজার। অসাধু ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ অসহায়। পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতির খবর আসছে গণমাধ্যমে। দিনাজপুরের হিলিতে আমদানিকৃত ও দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারতে পেঁয়াজের বাড়তি মূল্য এবং কম আমদানি মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি ১২০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছে, ঈদের পরও পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখীর কারণ ভারত থেকে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। দেশটিতে মসলাপণ্যটির দামও বেশি। এছাড়া দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় সরবরাহ কম। তাই মোকামে দাম ঊর্ধ্বমুখী। জানা গেছে, মোকামগুলোয় একদিনের ব্যবধানে মণপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৪০০-৫০০ টাকা বেড়েছে। দুদিন আগে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ছিল ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে সিন্ডিকেট। সব মিলিয়ে দেশি পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। জানা গেছে, কাঁচামরিচের কেজি ৩২০ টাকা। ৩০ টাকার সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। আলুর কেজি ৬৫ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে চাল, ডাল, ডিম ও মুরগির। ডিমের দামও বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। বৃষ্টির অজুহাতে সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেড়েছে। অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারার খবর আমরা জানি। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা বলছেন, সব কিছুর দাম বাড়ায় সংসার খরচ বেড়ে গেছে। যে কারণে আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের পেছনে। চাহিদার সঙ্গে দাম যাতে না বাড়ে, সে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো দৃশ্যত কিছু বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, এসব ব্যবস্থা বাজার নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক তেমন প্রভাব ফেলতে পারে না। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথা শুনছি। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে বাজারকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে পণ্য বিপণন, বাজার মনিটরিং ইত্যাদি যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এগুলো যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। পণ্য পরিবহন নির্বিঘœ রাখতে বিশেষ করে কৃষিপণ্যের সরবরাহে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে সংশ্লিষ্টদের। এর বাইরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা এও মনে করি, কেন্দ্র থেকে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষেত্র পর্যন্ত ব্যবস্থাপনাও নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে আমদানিকৃত ও দেশজ উৎপাদিত- এই দুই ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘœ রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়