কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাটের মোংলায় জমি ক্রয় করে হয়রানির শিকার হয়েছেন চার ব্যবসায়ী। হয়রানির হাত থেকে বাঁচতে এবং প্রতারকের বিচার দাবিতে রবিবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা। হয়রানির শিকার ব্যবসায়ীরা হলেন, মোংলা উপজেলার রেজাউল ইসলাম আলম, গাউস ফকির, আব্দুর রহমান, ফজলুর সরদার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেজাউল ইসলাম আলম বলেন, ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর উপজেলার কেওড়াতলা এলাকার মৃত পিয়ার আহমেদের স্ত্রী রেনুয়ারা বেগম বুড়ির ডাঙ্গা মৌজায় পৌনে ৭৪শতক জমি শারাফাত হাসান শাকিল ও আব্দুর রহমান, ফজুল সরদার ও কামাল হোসাইনের নামে অফেরতযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল করে দেন। জমি বাবদ ব্যাংকের মাধ্যমে ১২ লক্ষ এবং চেকের মাধ্যমে চার লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২৮ ডিসেম্বর রেনুয়ারা বেগম ও তার মেয়ে নাসরুম আহমেদ মাম্মি বুড়িরডাঙ্গা ও কাপালি মাঠ মৌজায় এক একর ২৫ শতক জমি শারাফাত হাসান শাকিল ও মাহমুদ হাসানের নামে অফেরতযোগ্য আমমোক্তারনামা দলিল করে দেন। জমি বাবদ তাকে ৩৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।কিন্তু এক একর ২৫ শতক জমির মধ্যে ৮৮ শতক জমি রেনুয়ারা বেগমের স্বামীর পিয়ার আহমেদের নামে রেকর্ড হয়েছে। এ ধরণের প্রতারণার কারণ জানতে চাইলে, রেনুয়ারা বেগম কোন সন্তোষ জনক জবাব না দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করেন। পরে স্থানীয়ভাবে শালীস মীমাংসায় সিদ্ধান্ত হয় রেনুয়ারা বেগম তার বিক্রি করা জমির মধ্যে থেকে ৩২ শতক জমি আমাদের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি জমি রেজিষ্ট্রি না করে, অফেরতযোগ্য আমমোক্তারনামা বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করেন। এতেই রেনুয়ারা খ্যন্ত হয়নি, বরং রেনুয়ারার একমাত্র জামাই দিদারুল আলম বিজয় ও তার ছেলে মুহাম্মদ তোতন আমাদের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমাকে হত্যা ও আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে অপহরণ করার হুমকি দেয়। এছাড়া বিভিন্ন গনমাধ্যমকর্মীকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের নামে মিথ্য সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। আমি এসবের তীব্র নিন্দা জানাই। ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম আলম আরও বলেন, জমি ক্রয় করে যদি এভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে কিভাবে সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করব। রেনুয়ারা ও তার জামাই দিদারুল আলম বিজয় তাদেরকাজই হচ্ছে মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে হয়রানি করা। এই প্রতারকদের হাত থেকে আমরা বাঁচতে চাই। টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত জমি যাতে ভোগ দখল করতে পারি তার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই ব্যবসায়ী।
