৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

যানজট নিরসনে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ

ঢাকায় যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, বিপণিবিতান প্রভৃতি জায়গায় যাতায়াত করা এখন এক দুঃসহ যন্ত্রণার নাম। যানজটের কারণে সময় নষ্ট ও ভোগান্তির কোনো সীমা নেই। ঠিক কতটা অর্থনৈতিক লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কতটা কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, মানুষ কতটা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন- এ নিয়ে সব সময় চলে নানা বিশ্লেষণ ও গবেষণা। পাশাপাশি সমাধানের উপায় নিয়েও নানা চেষ্টা করতে দেখা যায়। কিন্তু কোনো কিছুতেই সফলতা আসছে না। একে তো যানজট, তার ওপর বিভিন্ন আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের ব্যস্ততার কারণে রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় যানজট ছিল। দুপুর থেকে কোটাবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড় অবরোধ করায় এসব এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর বড় এলাকা। অফিস শেষে ঘরমুখো মানুষ পড়েন চরম ভোগান্তিতে। বাসসহ অন্য যানবাহন প্রধান সড়কগুলোতে আটকা পড়ে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রথমে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে চানখাঁরপুল মোড় ও ফ্লাইওভারের র‌্যাম্প অবরোধ করেন। এরপর তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। সেখান থেকে একে একে শাহবাগ মোড়ের চারটি রাস্তা বন্ধ করে দেন। ফলে শাহবাগ থেকে প্রেস ক্লাবের দিকের রাস্তা, শাহবাগ থেকে বাংলামটরের দিকের রাস্তা, শাহবাগ থেকে সায়েন্সল্যাবের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়ে শাহবাগের দিকে আসা যানবাহনগুলো ঘুরিয়ে কাকরাইল মসজিদের রাস্তাসহ অন্যান্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। অন্যদিকে বাংলামটরের দিক থেকে আসা যানবাহনগুলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আগের রাস্তা দিয়ে যায়। তবে মেট্রোরেলে অন্যদিনের তুলনায় অনেক বেশি চাপ পড়ে। আন্দোলন-সমাবেশের কারণে যানজট সমস্যা বেশি জটিল হলেও রাজধানী ঢাকায় যানজটের দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়। রাজধানীতে যানজট কমাতে এত উদ্যোগ নেয়া হলেও কেন কোনোটাই কাজে আসছে না, তা আরো বিশ্লেষণ করা দরকার। যদিও যানজট সমস্যার রাতারাতি সমাধান হবে না। আর সমাধান না হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে জনসংখ্যার ঘনত্ব। ঢাকায় প্রতি একরে প্রায় ৫০০ জন মানুষ বাস করে, নিউইয়র্কে যেখানে ২৫-৩০ জন। আর জনসংখ্যার এই ঘনত্ব সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণও এর জন্য একপ্রকার দায়ী। একটি শহরে সড়কপথের পাশাপাশি বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা (শহরের মধ্যে বা পাশে খাল বা দীর্ঘ লেক) থাকলে সড়কে চাপ পড়ে কম। ঢাকায় এ রকম ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা গড়ে ওঠেনি। ফলে সড়কের ওপর চাপ বেড়েছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে। আমাদের মতে, যানজট নিরসনে রাজধানীর রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণ, ব্যাপক হারে ফ্লাইওভার নির্মাণ, রাজপথ থেকে হকার উচ্ছেদ ও অবৈধ পার্কিংয়ের অবসান ঘটাতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রেও আরোপ করতে হবে কঠোর শৃঙ্খলা। সর্বোপরি যানজট নিরসনে প্রয়োজন সমন্বিত পদক্ষেপ।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়