৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ  । ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ 

এক বছরে হাজারের বেশি নির্যাতন : সংখ্যালঘু কমিশন গঠন সময়ের দাবি

দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ১ হাজার ৪৫টি নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি। হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ১০ জনকে। হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে ৩৬ জনকে। হামলা ও শারীরিক নির্যাতনে জখম হয়েছে ৪৭৯ জন। গত সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। চিত্রটি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াবে বৈকি। পরিষদের নেতা রানা দাশগুপ্ত দাবি করেন, হামলার সংখ্যাটি সাম্প্রদায়িক চালচিত্রের একটি আংশিক অংশমাত্র। বিগত বছরগুলোর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সহিংসতার ঘটনার খুব বেশি হেরফের হয়নি। এমন পরিস্থিতি বিরাজ করার কারণে ১৯৭০-এর নির্বাচনকালীন প্রায় ১৯ শতাংশ সংখ্যালঘু বর্তমানে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, অবৈধভাবে ভূমি দখল ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার লাগাম টানতে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করাসহ বেশ কিছু দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন দেশের সংখ্যালঘু নেতারা। সচেতন মহল দাবিগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেও কমিশন গঠনে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করাসহ বেশ কিছু দাবি নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে। নেতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যত কোনো উদ্যোগ আর চোখে পড়েনি। নানা ইস্যুতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ নির্যাতন যেন নিত্য ঘটনা। শাসকশ্রেণি কী জবাব দেবেন এ সহিংসতার? যেমন প্রশাসন, তেমন সমাজ- কারো জবাবদিহির মতো মুখ নেই। জবাব মেলেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নাসিরনগর, গোবিন্দগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় সহিংসতা। এমনকি জবাব মিলবে না রামু, উখিয়া, কক্সবাজারে বৌদ্ধ ও হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনারও। এগুলোর শাস্তি বিধান কি হয়েছে? ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন হয়তো কোথাও কোথাও হয়েছে; কিন্তু অপরাধীর বিচার ও শাস্তি কতটা হয়েছে? এই অনাচারের যথোচিত শাস্তি না হওয়ার কারণে এ প্রবণতা সমাজে বেড়ে চলেছে। যা বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন ও অসাম্প্রদায়িক দেশে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করি, আইন ও কমিশন বাস্তবায়ন হলে সংখ্যালঘুরা অভিযোগ করা, তদন্ত দাবি করা এবং তথ্য দেয়ার একটি নির্ভরযোগ্য স্থান পাবে। এতে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অনেকাংশেই কমে আসবে। আমরা সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দেখতে চাই। জাতিগতভাবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে রাষ্ট্রকেই ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর গড়ে ০.৫ শতাংশ হারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের আর কোনো লোক থাকবে না। দেড় কোটি সংখ্যালঘু বিপন্ন মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা সরকারের দায়িত্ব। এই বিষয়টি সবাইকে অনুধাবন করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়