প্রতিদিনের ডেস্ক॥
চলমান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ৫১০ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া শেরেবাংলা নগর ৬, ক্যান্টনমেন্ট ২, দক্ষিণখান ১, ধানমন্ডি ৪ জনসহ মোট ১৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
এদিন ঢাকার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর মধ্যে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ১, উত্তরা পূর্ব ২৪, বিমানবন্দর ২, ধানমন্ডি ৭, যাত্রাবাড়ী ৪৪, মুগদা ৬, রামপুরা ১৩, সুত্রাপুর ৫, ওয়ারী ৪১, বাড্ডা ৫০, ভাটারা ১৮, বংশাল ৪, কোতোয়ালি ৫, গুলশান ৪, বনানী ৩৮, কদমতলী ৪৪, তুরাগ ১২, রুপনগর ১২, পল্লবী ১৮, কলাবাগান ৩, নিউমার্কেট ৮, তেজগাঁও ৩৪, হাতিরঝিল ১৪, মোহাম্মদপুর ৮, আদাবর ৪, মিরপুর ৩৮, শেরেবাংলা ২, মতিঝিল ৭, পল্টন ৪, শাহজাহানপুর ৬, রমনা ২, শাহবাগ ৬, কাফরুল ৬ ও আশুলিয়া থানার ২১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাজধানীর সেতু ভবনে হামলার অভিযোগে বনানী থানায় করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেকমন্ত্রী আমানউল্লাহ আমানের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুলাই) আমানকে আদালতে উপস্থিত করে বনানী থানার এ মামলায় ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন আরফাতুল রাকিব রিমান্ড ও জামিন উভয়ই নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও বিএনপি-জামায়াতের মোট ১৭৩ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারাগারে যাওয়া আসামিদের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার ৯২, কদমতলী থানার ৪০, মিরপুর থানার ২০, বনানী থানার ৭, ধানমন্ডি থানার ৬, গুলশান ৫ ও শেরেবাংলা থানার ৩ জন আসামি রয়েছেন।
এদিকে সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সামিউল হক ফারুকীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সেতু ভবনে হামলার অভিযোগে বনানী থানায় করা মামলায় তাদের প্রত্যেককে আদালতে উপস্থিত করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে তাদের জামিন ও রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরফাতুল রাকিব প্রত্যেকের জামিন নামঞ্জুর করে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এছাড়াও নাশকতার বিভিন্ন মামলায় বিএনপি-জামায়াতের আরও ১৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে যাওয়া এ ১৫ আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ বিপু। তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডে নেওয়া আসামিদের মধ্যে ধানমন্ডি থানার মামলায় ৭, যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় ২, বনানী থানার ৩, শাহজাহানপুর থানার মামলায় ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

