২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মোংলা বন্দরের বরাদ্দকৃত প্লট জবর দখলের অভিযোগ জেলা পরিষদের সদস্যসহ তিন পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে

এনামুল কবির, মোংলা
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য দেয়া বরাদ্দকৃত প্লট জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্যসহ তিন পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। মোংলা পোর্ট পৌরসভার পিছনে বন্দর থেকে চার ব্যবসায়ীর নামে বরাদ্দ দেয়া চারটি প্লট জবর দখল করেন তারা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্লট মালিল ব্যবসায়ীরা। অভিযোগের সুত্রে জানা যায়, গত ২০০৫সালে ব্যবসা করার জন্য মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের স্মারক নম্বর-মবক/ব্য (প্রঃ)/স(মে)/৬/১২/(৩)০৫-৬৫৪ দাগের প্লট বরাদ্দ পান মোঃ নুরুজ্জামান মল্লিক, মোঃ হাবিবুর রহমান, সাহেব আলী মল্লিক ও মোঃ নুরু মিয়া নামে এই চার ব্যবসায়ী। সেই থেকে তারা নিয়মিত বন্দর কর্তৃপক্ষের ধার্যকৃত খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু গত ২৬মে ঘূর্ণিঝড় রেমালের দুর্যোগ চলাকালীন রাতের আঁধারে বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল জলিল শিকদার, পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মজনু গাজী ও ঠিকাদার ব্যবসায়ী মোঃ মাহাতাব তাদের সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে ওই প্লট দখল করেন। জবর দখলের খরর পেয়ে ভুক্তভোগীরা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। পরে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আফজালুর রহমান ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে দখলকারীদের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু তাদেরকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করেই প্রভাবশালী ওই দখলদার চক্রটি সেই প্লট দখলের পাশাপাশি সেখানে বিশাল স্থাপনা গড়ে তুলে বহাল তবিয়তে রয়েছে। ভূক্তভোগি ব্যবসায়ী মোঃ নুরুজ্জামান মল্লিক, মোঃ হাবিবুর রহমান, সাহেব আলী মল্লিক ও মোঃ নুরু মিয়া বলেন, পৌর মেয়র শেখ আব্দুর রহমান এর সাথে অবশ্যই জড়িত। তার যোগসাজসেই এই প্লট জবর দখল করা হয়েছে। এ বিষয়ে পৌর মেয়র শেখ আব্দুর রহমান বলেন, আমি এর সাথে কোনভাবে জড়িত নই এবং আমার কাউন্সিলররা জড়িত কিনা তা আমার জানা নাই। যদি বরাদ্দকৃত প্লট দখল হয়ে থাকে তাহলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবে।
জবরদখলকারী গংয়ের এক সদস্য ঠিকাদার ব্যবসায়ী মোঃ মাহাতাব বলেন, আমি কিংবা আমরা কেউই কারো কোন প্লট দখল করিনি। বরাদ্দকৃত প্লট দখল হওয়ার ঘটনায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, এ বিষয়ে দখলকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়