প্রতিদিনের ডেস্ক॥
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে ভারতের দাবিকে সমর্থন করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯ তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্টারমার বলেন, নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করতে হবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও ভারতের পক্ষে একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও ১০ অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। অস্থায়ী সদস্যরা নিজ নিজ অঞ্চল থেকে দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন। স্থায়ী সদস্যরা হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। স্থায়ী সদস্যরা নিরাপত্তা পরিষদের যেকোনও সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারে।
স্টারমার বলেন, ‘আমরা চাই কাউন্সিলে আফ্রিকা থেকে স্থায়ী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হোক। পাশাপাশি ব্রাজিল, ভারত, জাপান ও জার্মানিকেও স্থায়ী সদস্য করা উচিত। সঙ্গে নির্বাচিত সদস্যদের জন্য আসনও বাড়ানো প্রয়োজন।’ এর আগে, বুধবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে স্থায়ী সদস্য করার পক্ষে জোরালো যুক্তি দেন। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের দরজা বন্ধ থাকবে, ততদিন আমরা সামনে এগিয়ে যেতে বাধার সম্মুখীন হব। তাই জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করে তুলতে একে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে হবে। আর এ কারণেই নিরাপত্তা পরিষদের পরিসর বাড়ানোর পক্ষে মত দিচ্ছে ফ্রান্স। গত সপ্তাহে, জো বাইডেনও ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে সমর্থন জানিয়েছেন। শনিবার, দেলাওয়ারের উইলমিংটনে তার বাসায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকের সময় বাইডেন বলেছিলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য পদ চেয়ে এসেছে ভারত। সম্প্রতি এই দাবি আরও জোরালো হয়েছে। ভারত সর্বশেষ ২০২১-২২ সালে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়েছিল। ভারতের যুক্তি, ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিষদ ২১ শতকের উদ্দেশ্যের জন্য উপযুক্ত নয় এবং সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।

