২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১০ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মহালয়ার মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু: যশোরে ডিসিকে বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজর চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুভ মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে। আজ বুধবার (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহরের পৌর পার্কে সনাতন ধর্ম সংঘের আয়োজনে মহালয়া উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বালন ও উলুধ্বনির মাধ্যমে মহালয়ার শুভ সূচনা হয়। মূল আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে ঘট স্থাপন করে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজা করা হবে। ত্রিভঙ্গ চরণ ব্রহ্মচারীর চণ্ডীপাঠের সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে ইয়া চণ্ডী অর্চনা করেন ভক্তরা। এরবাইরে যশোর কালেক্টরেট পুকুরপাড়, বেজপাড়াতেও মহালয়ার উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এদিকে, পূজা উদযাপন পরিষদের কতিপয় নেতা টানা সময় ধরে দুর্গাপূজায় সরকারি অনুদানের চাল উত্তোলন করে বেচাবিক্রিতে দুর্নীতি ও পরিদর্শনের নামে প্রত্যেক আয়োজক কমিটির কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকের যে অর্থ কর্তনের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হজম করে আসছিল, এবার তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির সাথে একমত পোষণ করেছেন যশোর সদরের মন্দির কমিটির নেতারাও। তাদের ভেতরেও এতদিন চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে আসছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও সদরের নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ’র নেতারা লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। প্রত্যেক মন্দির কমিটির কাছে সরকারি অনুদানের চাল বা অর্থ সরাসরি বিতরণের দাবি তুলেছেন নেতৃবৃন্দ। সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা এতদিন পূজা উদযাপন পরিষদের ভেতরে থেকে ফাইট দিয়ে আসছিলেন কিন্তু অর্থ আত্মসাত ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে গঠন করেছেন বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ। এতে বেজায় খুশি বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজকরা। জানা গেছে, এবছর যশোরে ৬৫২টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭৩২। এ হিসেবে ৮০টি মন্দির ও মন্ডপে এবার দুর্গাপূজা হচ্ছে না। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে-কেশবপুর ও ভবদহ এলাকায় জলাবদ্ধতা, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা ও আর্থিক সংকট। তবে বিভিন্ন সূত্রমতে, যশোরে এতদিন পূজা উদযাপন পরিষদ সরকারি বরাদ্দের সমুদ চাল উত্তোলন ও বিক্রি করে তালিকাভুক্ত মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির হাতে নগদ অর্থ বিতরণ করে আসছে। অভিযোগ তোলা হয়েছে-পারিবারিক পূজা হয় নিজস্ব অর্থে কিন্তু সেইসব পূজা দেখিয়েও সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলন ও বিক্রিত অর্থ নয়-ছয় করা হয়। বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ’র আহবায়ক মৃণাল কান্তি দে অভিযোগ করেছেন-যে সংখ্যক মন্দির-মন্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়, ডিসির কার্যালয়ে তার সংখ্যা ৫ থেকে ৭টি বেশি দেখিয়ে চাল উত্তোলনের নজির ইতিপূর্বে রয়েছে। সেই সাথে সমুদয় চালের ডিও বিক্রি করে প্রত্যেক মন্দিরের প্রাপ্য অর্থ থেকে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা নয়-ছয় হয়। এতদিন সংগঠনটিতে থেকে বিরোধীতা করে ব্যর্থ হয়েছি উল্লেখ করে এই নেতা বলেন-শেষ পর্যন্ত আমরা অনেকে পূজা উদযাপন পরিষদ ত্যাগ করে বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ গঠন করেছি। আশা করছি-প্রশাসন দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে সহায়তা করবে।
সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা করে স্ব স্ব মন্দির কমিটির হাতে সরকারি বরাদ্দের চাল বা অর্থ বিতরণের দাবি করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলেও সংগঠনটির একাধিক দায়িত্বশীল একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মৃণাল কান্তি দে বলেন-গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এটি যশোর সদরে হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন-আমরা বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ’র পক্ষ থেকে দাবি করেছি-স্ব স্ব মন্দির-মণ্ডপ কমিটির হাতে সরকারি অনুদান বিতরণ করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এদিকে, সরেজমিনে দেখা গেছে-যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর শিল্পীরা। যশোর জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন‘গত বছরের তুলনায় এবার পূজার মণ্ডপ কমেছে। কেশবপুর, মনিরামপুরে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় পূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।দেশে বড় একটা প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। অনেক হিন্দু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে মানুষের মনে কিছুটা আতঙ্ক রয়েছে। তবে যশোরের কোথাও প্রতিমা ভাঙচুর, হুমকি-ধমকির কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। প্রতিটি মণ্ডপ এলাকায় হিন্দু-মুসলিম মিলে নিরাপত্তা কমিটি করা হয়েছে। সরকারিভাবে মন্দিরে পূজার জন্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন।’ অন্যদিকে, বৈষম্য বিরোধী ‘সনাতনী সমাজ’র অন্যতম উপদেষ্টা ও মানবাধিকার নেতা বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন-আশা করছি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার দুর্গাপূজা সার্বজনীনরুপ পাবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ খুবই আন্তরিক। সরকারি অনুদানের অর্থ নয়-ছয় প্রসঙ্গে মি.মল্লিক বলেন-জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি এবার নয়-ছয় করার সুযোগ অভিযুক্তরা পাবে না।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়