২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

ধর্ষকের গ্রাম্য সালিশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

মঈন উদ্দিন খান, কোটচাঁদপুর
গ্রাম্য সালিশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে ধর্ষনের ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনাটি ঘটেছে কোটচাঁদপুরের রাজাপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায়। এ ধরনের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ বিচার আইনে কভার করে না বললেন কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সৈয়দ আল মামুন। কোটচাঁদপুরের রাজাপুর গ্রামের ওই নারীর ভাই অভিযোগ করে বলেন,আমরা ৬ ভাই বোন। এরমধ্যে ওই বোনটা সবার ছোট। গেল ২ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। ওই ঘরে একটা বাচ্চাও আছে বোনটির। সে একটু বুদ্ধি প্রতিবন্দী হওয়ায় বোনকে তাঁর স্বামী রেখে গেছেন। বেশ কিছু দিন আমাদের বাড়িতেই থাকেন সে। এ সুযোগে পাশের বাড়ির আমিরুল ইসলাম তাঁকে ফুসলিয়ে ধর্ষন করেন। এর ফলে সে গর্ভবতী হন। বিষয়টি জানাজানি হয় (২-১০-২৪) তারিখে। এরপর আমিরুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন ও আমার প্রতিবেশী ভাবী আঞ্জুরা খাতুন মিলে তাঁর গর্ভপাত ঘটনার জন্য ঔষধ খাওয়ান তাকে। এতে আমার বোন অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। এরপর আমি জানতে পেরে ঘটনাটি গ্রামের কয়েক জনকে জানায়। তারা ঘটনাটি মিটাতে চাপ দিতে থাকেন। আর আমি ও তাঁর সংসার করার কথা ভেবে মেনে নিয়েছি। এরপর গেল ৬ তারিখ সন্ধ্যা রাতে গ্রাম্য সালিশ হয় গ্রামেই। ওই সালিশে আমিরুল কে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন মাতুব্বররা। বিচারে ছিলেন এ গ্রামের সাফা মাস্টার,কবির মন্ডল,আব্বাস আলী,সিরাজ মন্ডল নাগর,সাইদুল হক,জাহাঙ্গীর হোসেন,খোকন ও হ্যাম্জা। এরমধ্যে আব্বাস হোসেন ও মাসুদ হোসেন বলেন,ঘটনাটি গ্রাম সালিশে বসে মিটিয়ে দেয়া হয়েছে। সভায় সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই টাকা থেকে মেয়ে পক্ষ সাংবাদিক পুলিশ সহ সব কিছু মিটাবে। আসামি পক্ষরা শুধুমাত্র জরিমানার টাকাটি দিবে। এ ভাবেই লিখিত করে নেয়া হয়েছে। তবে টাকা এখনও মেয়ে পক্ষকে দেয়া হয়নি। এরজন্য অভিযুক্ত পক্ষ ১০ দিন সময় নিয়েছেন। ওই ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিশে মিমাংসা করতে পারেন কিনা,এমন প্রশ্ন তারা বলেন,অবশ্যই পারি। না পারলে কারা করবে। তারা বলেন, বাদি যদি অভিযোগ না করেন,তাহলে আর সমস্যা কি। কোটচাঁদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি)সৈয়দ আল মামুন বলেন,ঘটনাটি আমি শুনেছিলাম। আমি সাবদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির বিল্লালকে পাঠিয়েছিলাম। তারা কথা দিয়ে ছিল থানায় আসবে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। এ ধরনের ঘটনা গ্রাম্য সালিশে মেটাতে পারে কি,এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,বিষয়টি নিয়ে অনেক নেতায় ফোন করেছিল। আমি তাদের বলেছি,আগে থানায় মামলা হোক। এরপর চার্জশিট যাক আদালতে। পরে আদালতের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করেন। কারন এ ধরনের ঘটনা গ্রাম্য সালিশ আইনে কভার করে না।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়