১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোল কলেজের কমিটি নিয়ে শিক্ষককে লাঞ্চিত : আধিপত্য বিস্তারে বোমাবাজি

সুন্দর সাহা
বেনাপোল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি পদ নিয়ে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র দুই গ্রুপের অভ্যান্তরিন কোন্দলের কারনে কলেজের অধ্যক্ষকে লঞ্ছিত ও গালিগালাজ করে জোর করে আবেদনে ফরোয়ার্ডিং করে নেওয়া হয়। এদিকে বাজারে শান্তিপুর্ণ মিছিলে হামলা ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ অক্টোবর) আনুমানিক বেলা ১ টার সময় শার্শা উপজেলায় যুবদল নেতা লিটন ও বিএনপির তৃপ্তি গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। শার্শা উপজেলায় বিএনপির দুইটি গ্রুপের একটিতে রয়েছেন মাইনাস টু ফর্মুলার অন্যতম অনুঘটক বিএনপির সংস্কারপন্হী গ্রুপের নেতা (পরে দল থেকে বহিস্কৃত কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক) মফিুকল হাসান তৃপ্তির অনুসারি ও অন্যটির নেতৃত্বে আছেন কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান লিটনের অনুসারি। বেনাপোল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি বা আহ্বায়ক পদ নিয়ে এই দুই নেতার দু গ্রুপের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। এ বিষয়ে বেনাপোল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান বলেন, সরকার পতনের পর আমাদের পুর্বের এডহক কমিটি বিলুপ্তি করে দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অস্থায়ী ভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এরপর নতুন কমিটির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সভাপতি ও বিদ্যুৎসাহী ব্যক্তিদের তিনজন করে নাম পাঠাতে বলা হয়। আমরা কলেজের সকল শিক্ষক বসে একটি টি আরও গঠন করি। যে সব লোকজন কলেজের প্রতিনিধিত্ব করেন তারা কলেজে আসেন এবং নতুন সভাপতি কাকে নেওয়া যায় আলোচনা হয়। তারা সকলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি নুরুজ্জামান লিটনেরর নাম উত্থাপন করে। এর প্রেক্ষিতে কয়েকদিন পর অর্থাৎ চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নুরুজ্জামান লিটনকে সভাপতি প্রার্থী হিসাবে তার লোকজন একটি ফরোয়ার্ডিং নিয়ে যান কলেজ থেকে। যা স্বাক্ষর করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর কয়েকদিন পর বেনাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মিলন, পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও সাহাবুদ্দিন আহমেদ কলেজে আসে এবং লিটনকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে সভাপতি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তবে তারা ওই সময় কারো নাম দিতে পারেনি। এরপর মাসুদুর রহমান মিলন বার বার তাকে ফোন করে লিটনকে বাদ দিয়ে অন্য নাম দিয়ে ফরোয়ার্ডিং করতে বলে। রোববার মাসুদুর রহমান মিলনের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে শার্শা উপজেলা বিএনপি সভাপতি খায়রুজ্জামান মধুর আবেদন ফরোয়ার্ডিং করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পাঠাতে বলে। আমি তাদের বুঝাতে চেষ্টা করি একবার কারো নাম দিলে দ্বিতীয়বার আর দেওয়া যায় না। এসময় মিলন উত্তেজিত হয়ে আমাকে অন্যান্য শিক্ষকের সামনে মারতে যায় এবং গালিগালাজ করে। এরপর জোর পুর্বক সে আমাকে প্রান নাশের এবং চাকুরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে খায়রুজ্জামান মধুর পক্ষে ফরোয়ার্ডিং করে নিয়ে যায়। এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বেনাপোল বাজারে লিটনের পক্ষে একটি মিছিল শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন মিছিলটি যাওয়ার সময় অন্য গ্রুপ এসে তাদের ধাওয়া করে এবং পর পর ৩/৪ টি বোমা বিস্ফোরন ঘটায়। বোমা বিস্ফোরন ও লাঠি সোঠার ভয়ে বাজারের ব্যবসায়িরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে। এ বিষয়ে বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবু তাহের ভারত প্রতিদিনের কথাকে বলেন, প্রায় একমাস পুর্বে বেনাপোল কলেজের সভাপতি পদের জন্য জাতিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নুরুজ্জামান লিটনের আবেদন কলেজ অধ্যক্ষ ফরোয়ার্ড করেন। এরপর বার বার বিএনপির সংস্কারপন্হী গ্রুপের নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তির কিছু অনুসারি বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মিলনের নেতৃত্বে খায়রুজ্জামান মধুকে সভাপতি করার জন্য আবেদন ফরোয়ার্ড করতে বলে অধ্যক্ষকে। রোববার ওই গ্রুপটি জোর পুর্বক কলেজ অধ্যক্ষের নিকট থেকে আবেদনে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এবং অধ্যক্ষকে মারধর করতে যায়। এরপর নুরুজ্জামান লিটনের একটি শান্তিপুর্ণ মিছিলে মফিকুল হাসান তৃপ্তির অনুসারিরা হামলা করে ও বাজারে কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ বিষয় বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি রাছেল মিয়া বলেন, তারা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে কেউ মামলা করেনি। মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে আপাতত পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়