৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে ‘কোজি গেমিং’

প্রতিদিনের ডেস্ক॥
গেমে আসক্তি বিষয়ে অভিভাবকরা বেশ চিন্তায় থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে সতর্ক করেন।
গেমে আসক্তি বিষয়ে অভিভাবকরা বেশ চিন্তায় থাকেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে সতর্ক করেন। তবে মানসিক স্বাস্থ্যে গেম যে অবদান রাখতে পারে তা শুনলে কিছুটা অবাক হতেই হয়। অনেক গেমার জানিয়েছেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ‘কোজি গেম’ সাহায্য করছে।
বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, কোজি গেম এমন এক ধরনের ভিডিও গেম, যেখানে যুদ্ধ ও প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সাধারণত প্রতিদিনকার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ ও রহস্যের সমাধান করতে হয়। এসব গেমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগও থাকে। তাছাড়া গেমগুলো আরামদায়ক পরিবেশে খেলা হয়। বিশেষ করে কভিড-১৯ মহামারীর সময়ে এ ধারার গেম বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন বিভিন্ন গেমারকে তাদের খেলার জায়গার পরিবেশ ও আয়োজন নিয়ে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায়। কোজি গেমের মধ্যে রয়েছে অ্যানিমেল ক্রসিং, আনপ্যাকিং, স্টারডিউ ভ্যালিসহ আরো অনেক গেম।
মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থা মাইন্ড সাইমরু জানিয়েছে, কোজি গেম মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে এবং মননশীলতার অনুশীলনেরও এক দুর্দান্ত উপায় এটি।
যুক্তরাজ্যের রোন্ডা সিনন টাফ এলাকার পাঁচ সন্তানের মা ৩২ বছর বয়সী ড্যানি উইলস উদ্বেগ ও হতাশায় ভুগছেন। সম্প্রতি অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডারে (এডিএইচডি) আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের গেম খেলছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পোকেমন রেড ও দ্য সিমসের মতো রোল-প্লেয়িং গেমে ঝুঁকেছেন। এসব গেমে অন্যদের সঙ্গে নিজেকে একটি চরিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হয়। এসব গেমকেও অনেকে কোজি গেম হিসেবে বিবেচনা করেন।
ড্যানি উইলস বলেন, ‘অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে খেলার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা যায়। এতে আমার মধ্যে সামাজিকবোধ এসেছে। আমি মনে করি, সত্যি বলতে এটি আমাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে। এসব গেম আমার খারাপ সময় পার করতে সাহায্য করেছে।’
কার্ডিফের ৩৮ বছর বয়সী বেন আইলিংয়ের সিজোফ্রেনিয়া এবং অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তিনি আগে গৃহহীন ছিলেন এবং মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এসব সমস্যার সমাধানে তিনি গেমিং শুরু করেন। বেন আইলিং বলেন, ‘গেম খেলার সময় আমি যখন বাটনে হাত রাখি, তখন জীবনের লড়াই সম্পর্কে অনেকটাই ভুলে যাই।’ উইলস ও আইলিংয়ের মতো আরো অনেকেই আছেন যারা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে গেমিং বেছে নিয়েছেন এবং অনেকটাই কাটিয়ে উঠছেন।
কোজি গেমগুলো বেশ রঙিন হয়। অন্যের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ ও বিভিন্ন লক্ষ্য পূরণ করতে হয় বলে অনেকেই এসব গেম খেলতে পছন্দ করেন। কম্পিউটার, এক্সবক্স বা নিনটেন্ডো সুইচের মতো কনসোলে গেমগুলো অনায়াসে খেলা যায়। এজন্য খুব বেশি খরচ করতে হয় তাও নয়। তবে আরামের পরিবেশ তৈরিতে গেমার ঠিক কী করবেন তা ব্যক্তিনির্ভর।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়