২রা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

কচুয়ায়কবির গংয়ের তান্ডব চলছেই : জমি বিরোধে মামার হতে ভাগ্নে খুন

কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাটের কচুয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পলাশ শেখ (৩৬) নামের এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছেন আপন মামা আব্দুর রব কবির ও তার লোকজন। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ফতেপুর বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত পলাশ শেখ কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের আফজাল শেখের ছেলে। তার স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুর রব চন্দ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও কচুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। কবির হোসেন স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। সরকার পরিবর্তনের পরে রব ও কবিরের নেতৃত্বে মারধর, বাড়িঘর লুট, চাঁদাবজী ও ডাকাতিসহ নানা অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলামকে (২৭) এলাপাথারি কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছেন রব কবিরের লোকজন। তিনি এখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। তবে প্রাণের ভয়ে রব-কবিরের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না। নিহতের মা হেলেনা বেগম বলেন, বাবার বাড়িতে পাওয়া প্রায় দেড় বিঘা জমি জাল দলিল করে আমার ভাই বিএনপি নেতা আব্দুর রব ও কবির জাল দলিল করে নিয়েছেন। এই জমি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ভাইদের সাথে আমাদের পরিবারের বিরোধ ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে রব আমার ছেলেকে ডেকে তার সাথে নিয়ে বিভিন্ন অপরাধ করিয়েছে। কয়েককদিন আগে জমি ফেরত চাইলে রব ও কবির আমার ছেলে পলাশকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করে। গতকালও আমার ছেলে বাড়িতে ছিল। স্থানীয় শিমুল কয়েকবার ফোন করে, কুমারগাড়িয়া ঘেরের (সরকারি জমিতে দখল করা ঘের) ভাগের টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। বাইরে থেকে আনা ৫জন লোক এবং স্থানীয় অনেক লোককে দিয়ে রব ও কবির আমার ছেলেকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে আসছে। আমি রব-কবির এবং যারা আমার ছেলেকে মেরেছে তাদের ফাসি চাই। আমার ছেলেকে কেউ একটু পানিও দেয়নি বলে বিলাপ করতে থাকেন সন্তান হারা মা। পলাশের বোন সালাম বেগম বলেন, রব ও কবির এই জমি নিয়ে আগেও আমার ভাই ও মাকে কয়েকবার মেরেছে। গতকাল তারা একদম মেরে ফেলেছে আমার ভাইকে। রব, কবির ও আকবরের নেতৃত্বে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।তারা ২০ লক্ষ টাকাও রেখেছে, এই হত্যা মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। পলাশের স্ত্রী রিমা বেগম বলেন, আমার তিনটা ছেলে-মেয়ে। আমার বাবা-মা নেই, শ্বশুর-শ্বাশুরীও বৃদ্ধ। একটু জমির জন্য আপন ভাগ্নেকে মেরে ফেলল রব-কবির, আমি এখন কোথায় যাব। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সরকার পরিবর্তনের রব ও কবির এলাকাকে অশান্ত করে ফেলেছে। এমন কোন অপরাধ নেই তারা করেনা। কচুয়ার মানুষের শান্তির জন্য তাদের এখনই থামানোর দাবি জানান তিনি।
কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মনি শংকার পাইক বলেন, রাতে মৃত অবস্থায় একজন মারধরের রোগী নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তবে ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, পলাশ শেখ প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ব্যক্তিকে কোপাচ্ছিলেন। এতে দুজন আহত হন। এর কিছুক্ষণ পরই লোকজন একজোট হয়ে পলাশকে আটকে মারধর শুরু করেন। পলাশের হামলায় আহত দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল আলম বলেন, হত্যার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার দুপুরে বাগেরহাট মর্গে নিহতের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়