৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

শিল্প খাতে বিনিয়োগ সংকট

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম শর্ত বিনিয়োগ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করে শিল্পের উন্নয়নের ওপর। দেশের শিল্প উন্নত ও আধুনিক না হলে যেকোনো দেশই অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সব দেশের জন্য এই সত্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশ এখন শিল্পে অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে দেশের শিল্প বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও জোয়ার আসবে। দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা কঠিন হবে না। উচ্চ সুদের হার, শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে দেশে বিনিয়োগ স্থবিরতা চলছে। এর ফলে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। আর তলানিতে এসে ঠেকেছে শিল্পোৎপাদন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রায় তরুণদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির চাহিদার মধ্যে নানামুখী সংকটে জর্জরিত উদ্যোক্তারা। সময়মতো এলসি করতে না পারা, জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে কারখানার উৎপাদন নেমেছে শূন্যের কোঠায়। কারখানায় বিক্ষোভ, হামলা-মামলার কারণে ভারী শিল্প, পোশাক ও টেক্সটাইল খাত মারাত্মক সংকটের মধ্যে পড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে। অর্থনীতিতে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-উদ্যোগে পরিচালন ব্যয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। ব্যাংকঋণের সুদহার দফায় দফায় বেড়ে ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
প্রায় আড়াই বছর ধরে অব্যাহত সংকটের কারণে ডলারের দরও বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ। এতে আমদানি কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এতে শিল্পে উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়েছে। এসবের প্রভাবে ব্যয়বহুল হয়েছে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি। উদ্যোক্তারা বলছেন, বিভিন্ন রেগুলেটরি সংস্থার ভুল নীতি এবং সময়-অসময়ে দেওয়া বিভিন্ন সার্কুলার অনেক উদ্যোক্তাকে ঋণখেলাপিতে পরিণত করেছে। তাই স্বেচ্ছায় ঋণখেলাপি নয়; বরং সরকারের নীতিমালার জন্য খেলাপি হয়েছেন, এমন উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রাখার দাবি উঠেছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বর টানা দুই মাস সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী ও গাজীপুরের পুরো শিল্পাঞ্চলে চরম অস্থিরতা ছিল। অক্টোবরে এসে বড় পরিসরের অস্থিরতা থামলেও মাঝেমধ্যেই ঘটছে সহিংসতা। বিদেশি ক্রেতারা উদ্বেগ জানাচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে নতুন রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে রপ্তানি বাড়ছে প্রতিযোগী দেশগুলোর। শুধু ঢাকার আশপাশের কারখানায় নয়, ঢাকার বাইরের কারখানাগুলোতেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারখানায় বিক্ষোভ, হামলা-মামলার কারণে ভারী শিল্প, পোশাক ও টেক্সটাইল খাত মারাত্মক সংকটের মধ্যে পড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। আবার বিশ্বায়নের এই যুগে শুধু দেশীয় বিনিয়োগের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ এলে দেশের অর্থনীতিতে যেমন নতুন গতির সঞ্চার হবে, তেমনি নতুন নতুন বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম হবে। বিনিয়োগের জন্য কিছু শর্ত পূরণ প্রয়োজন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়