১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

স্থল বন্দর বেনাপোলে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল উদ্বোধন করলেন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন

সৈকত হোসেন
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্যজট কমাতে ও বন্দরের সমতা বাড়াতে নির্মিত ‘কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল’ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বেনাপোল স্থলবন্দরে নির্মিত কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল উদ্বোধন ও বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভারতীয় আমদানিকৃত পন্য বোঝায় ট্রাকগুলি এ কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালে রাখা হবে।

তবে সাথে সাথে ভারতে রপ্তানি মুখী বাংলাদেশী পণ্য বোঝায় ট্র্যাকগুলোই এ ইয়ার্ডে অবস্থান করবে। তবে ভারতীয় পণ্য বোঝায় আমদানিকৃত ট্রাকের চেয়ে ভারতে রপ্তানি বোঝায় বাংলাদেশী ট্রাকগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে অবস্থান করতে পারবে। উভয় দেশের ট্রাক চালকরা এখানে অবস্থান করতে পারবে। এখানে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় স্কেলে ট্রাকগুলো ওজন করা হবে। ফাঁকির কোন সুযোগ থাকবে না। পাসপোর্টযাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটি মাস্টার প্লান তৈরি করছি। যাত্রীদের আর কাকের মত বাইরে বসে থাকতে হব না। এক কিলোমিটার জায়গা নিয়ে বড় ধরনের একটি যাত্রী টার্মিনাল তৈরি করা হবে। সেখানে বসা, খাওয়ার জায়গাসহ সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে।

বাস থেকে নামার পর চেকপোস্টে যাত্রীদের নানা ভাবে হয়রানি বন্ধে সংশ্লিস্ট সকলকে নির্দেশ দেন। এরপর দুপুর সাড়ে ৩ টার সময় তিনি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে বেনাপোলের ছাত্র নেতা আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান এবং স্বজনদের সান্তনা দেন। পরে তিনি বন্দর অডিটরিয়ামে স্থলবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথে মত বিনিময় সভায় মিলিত হন। কার্গো টার্মিনাল চালু হওয়ার ফলে একসঙ্গে এই টার্মিনালে ১২০০ থেকে ১৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক রাখা যাবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসবে, দু দেশের মধ্যে সীমান্ত বাণিজ্য ও রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনালের নির্মান কাজ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হল বলে জানান এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও বন্দরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান আলী।


প্রকল্প পরিচালক হাসান আলী আরও জানান, ৪১ একর জমির উপর এই কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালটি ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনালের নির্মান কাজ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হল। এসময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে উপস্থিত ছিলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম, বন্দরের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব), যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, বিজিবি দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির, বেনাপোল কাস্টমস এর কমিশনার মোঃ কামরুজ্জামান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক, ড. রাজীব হাসান, শার্শা উপজেলা এসিল্যান্ড (ভূমি) নুসরাত জাহান, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার, বেনাপোল সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান, বেনাপোল সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, বন্দর হ্যাণ্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন- ৯২৫এর সাধারন সম্পাদক সহিদ আলীসহ নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

এসময় বেনাপোল সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত জানান, দেশের সর্ববৃত্তম স্থল বন্দর বেনাপোল। এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন অন্ততঃ সাড়ে ৫ শত গাড়ি আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে এবং বাংলাদেশী রপ্তানি পন্য নিয়ে ভারতের প্রবেশ করে প্রায় ২০০ গাড়ি। পণ্য বোঝায় গাড়িগুলো বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পর রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকাই প্রতিনিয়ত বেনাপোল বন্দরে যানজটের কবলে পড়তো। বৃহস্পতিবার কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালটি চালু হওয়ার ফলে একসঙ্গে এই টার্মিনালে ১৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক রাখা যাবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসবে এবং সীমান্ত বাণিজ্য ও রাজস্ব আয় বিপুল পরিমাণ বাড়বে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়