প্রতিদিনের ডেস্ক॥
নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন উন্মোচন করতে যাচ্ছে চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে।নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমে প্রথম ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন উন্মোচন করতে যাচ্ছে চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। প্রযুক্তি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুটি আলাদা সিস্টেমে ভাগ হয়ে যাচ্ছে, এটি তার একটি ইঙ্গিত বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
চলতি সপ্তাহে হুয়াওয়ের নতুন স্মার্টফোন মেট ৭০ উন্মোচন হতে যাচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, স্মার্টফোনটি ‘হারমনি ওএস নেক্সট’ নামে একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। হুয়াওয়ের প্রত্যাশা, এটি অ্যাপলের আইওএস ও গুগলের অ্যান্ড্রয়েডের পাশাপাশি তৃতীয় একটি প্রধান মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মেট ৭০ ফোনে সফটওয়্যার লঞ্চের সিদ্ধান্তটি গত বছরের মেট ৬০-এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুয়াওয়েকে দুর্বল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাগুলো আসলে কোম্পানিটিকে আরো শক্তিশালী করেছে। গত মাসে হুয়াওয়ে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম নয় মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এর বিক্রি বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পল ট্রিওলো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু ব্লক করে দিতে পারে, এ ভয় থেকেই চীন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’ কারণ চীন তার নিজস্ব প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে ও বিদেশী প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সার্ভিসে অ্যাকসেস ব্লক বা সীমিত করতে পারে, যা চীনের প্রযুক্তিগত উন্নতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটি আরো স্বনির্ভর হবে এবং নিজের সিস্টেম ও সমাধান তৈরি করবে। আর এরই একটি উদাহরণ হারমনি ওএস অপারেটিং সিস্টেম।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা হুয়াওয়ের গুগল মোবাইল সার্ভিসে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। ফলে কোম্পানিটি তার প্রথম হারমনি ওএস সংস্করণ চালু করে। এটি ওপেন সোর্স অ্যান্ড্রয়েড কোডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস হুয়াওয়ের ফোনে চলতে পারে। পরে হুয়াওয়ের প্রোগ্রামাররা ধীরে ধীরে হারমনি ওএস নেক্সট তৈরিতে কাজ শুরু করেন।
হুয়াওয়ে জানিয়েছে, তাদের নতুন অপারেটিং সিস্টেম হারমনি ওএসের জন্য চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপগুলো প্রস্তুত করতে মনোযোগ দিয়েছে। কোম্পানির দাবি, তাদের ১৫ হাজারের বেশি অ্যাপ ও সার্ভিস চালু আছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ, যেমন টেনসেন্টের উইচ্যাট, আলিবাবার টাওবাও ও মেইটুয়ানের ফুড ডেলিভারি অ্যাপ রয়েছে। হারমনি ওএস এরই মধ্যেই ১০০ কোটি ডিভাইসে চলছে ও নেক্সটের জন্য কিছু অ্যাপ প্রতিদিনই আপডেট হচ্ছে।

