প্রতিদিনের ডেস্ক॥
আগামী বছর চিপ নির্মাণের ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনবে এআই ও হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং (এইচপিসি)। ফলে দুই ন্যানোমিটার প্রযুক্তি ও চিপ প্যাকেজিং উন্নত হবে, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। আইডিসির বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি সাপ্লাই চেইন ইন্টিলিজেন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টরের বাজার বাড়বে ১৫ শতাংশ।
এ বিষয়ে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ব্যবস্থাপক গ্যালেন জেং বলেন, ‘আরো উন্নত চিপ এবং উচ্চ ব্যান্ডউইডথ মেমরির (এইচবিএম) চাহিদা বৃদ্ধি করছে এআই। ফলে ২০২৫ সালে সেমিকন্ডাক্টর মার্কেটে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে। চিপের ডিজাইন, উৎপাদন, পরীক্ষা ও উন্নত প্যাকেজিংসহ পুরো সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
২০২৫ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টরের বাজার বাড়ার সঙ্গে মেমোরি সেগমেন্টটি ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখবে। কারণ এইচবিএম৩ ও এইচবিএম৩ই-এর মতো উন্নত মেমোরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এগুলো এআই প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য। মেমোরি চিপগুলো ডাটা সংরক্ষণ বা পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের জন্য কাজে আসে। এছাড়া আগামী বছর এআই সার্ভার, উচ্চ মানের স্মার্টফোন ও ওয়াই-ফাই৭ (সপ্তম প্রজন্ম) ডিভাইসের জন্য চিপের চাহিদা বাড়ার কারণে নন-মেমোরি সেগমেন্টটি ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখতে পারে। এসব চিপ তথ্য প্রক্রিয়া (প্রসেস) বা অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। এ সময় পুরনো মেমোরি চিপের বাজারটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোরও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) চলতি মাসের প্রতিবেদনে বলছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিক্রি ৫ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শিল্পটির ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে অক্টোবরে। এছাড়া ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টরের বাজার শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। এসআইর আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেমোরি স্টোরেজের জন্য চিপের বাড়তি চাহিদা এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। এআইর প্রভাবে সামনের বছরগুলোয় সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে আশাবাদী বাজার বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে এসআইর প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নিউফার বলেন, ‘২০২৪ সাল শেষে এ খাতে মোট বার্ষিক বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়বে। আর ২০২৫ সালে বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণ হারে বাড়বে।’

