অপূর্ব মৃন্ময়
থেকে নেই যশোরে ঝিকরগাছা রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এখনো চালাচ্ছে ঘুষের রাম-রাজত্ব। অফিস সহকারী মঞ্জুয়ারা অফিস চলাকালীন সময়ে এখনে ঘুষের হাট বসিয়ে থাকেন। অফিস সহকারী মঞ্জুয়ারার ধীর্ঘদিন কয়েকজন ক্যাডারকে ক্যাশিয়ার নিয়োগ দিয়ে হাট থেকে ইজ্জতদারের মত ঘুষের টাকা উঠিয়ে থাকেন। তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রতিমাসে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। সাব রেজিস্ট্রার মোস্তাক আহম্মেদ শাকিল বিষয়টি জানলেও তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। উল্টো দোসরদেরকে পর্ণবাসন করে চলেছেন সাব রেজিস্ট্রার। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে এখনো কিভাবে সাব রেজিস্ট্রার ও অফিস সহকারী স্বপদে বহাল আছেন ? সম্প্রতি ঝিকরগাছা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন টনক নড়েনি। ফলে কর্তাদের কর্মকান্ড নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,কল্যাণ তহবিলের নামে ঝিকরগাছা দলিল লেখক সমিতি রেজিস্ট্রি খরচ দেখিয়ে দলিল প্রতি দুই হাজার টাকা আদায় করছে। প্রতিমাসে প্রায় দেড় হাজার দলিল ঝিকরগাছা অত্র অফিসে রেজিস্ট্রি হয়। সে হিসেবে প্রতিমাসে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৩০ লাখ টাকা। অফিসের নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশন দলিল প্রতি ২০০ টাকা আদায় করে। সে হিসেবে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ লাখ টাকা। দলিলের সার্টিফাইড কপি উত্তোলন বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় দেড় হাজার থেকে শুরু করে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। অথচ সরকারি ফিস মাত্র ৮ থেকে ৯শ’ টাকা। হিসেব মতে প্রতি মাসে এক হাজারটি দলিলের বিপরীতে অন্তত; ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে সিন্ডিকেট।পড়চা, ওয়ারেশ কায়েম সার্টিফিকেট ও দানপত্র দলিলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলিল প্রতি ২ হাজার থেকে শুরু ২ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। মাস শেষে সব মিলেয়ে কোটি টাকারও বেশি আদায় করা হচ্ছে মঞ্জুয়ারার সিন্ডিকেট। আদায়কৃত এসব টাকার একটা অংশ পান সাব রেজিস্ট্রার মোস্তাক আহম্মেদ শাকিল। অভিযোগ রয়েছে,বিগত ফ্যাস্টিট আওয়ামী সরকারের আমলে গড়ে ওঠে এই সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক ও মাস্টার মাইন্ড জুম্মান হোসেন সোহেল নকলনবিশ হওয়া সত্বেও তার জন্য অফিসের ভেতরে আলাদা একটি কক্ষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অফিস সহকারী মঞ্জুয়ারা নির্দেশে মহুরী জহুরুল হক ও নেছার আলী সিন্ডিকেটের টাকা আদায় করছে বছরের পর বছর। ক্যাশিয়ার হিসাবে পরিচিত রয়েছে দলিল লেখক জহুরুল হকের। মঞ্জুয়ারার নেক-নজরে থেকে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছেন তারা। এছাড়া আওয়ামী যুবলীগের পরিচয়ে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে সাদ আমিন রনি-সাহাজুল ইসলাম দীপু-সন্টু। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,ঝিকরগাছা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। সেবা পেতে গেলে দলিল লেখক সমিতির চাহিদা মোতাবেক অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তবেই সেবা মেলে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অফিস সহকারী মঞ্জুয়ারা নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে এ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আদায় করে আসছে।

