১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

সন্ত্রাসী ফেন্সি রেজাউল-জনি এবং ডাব্লু বাহিনীর বেশুমার বোমা হামলায় ফের অশান্ত কন্যাদহ

সৈকত হোসেন
ভয়ঙ্কর জনপদ কন্যাদহ ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে। এবার মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে রেজাউল-জনি এবং ডাব্লু বাহিনী। তারা খৈ-মুড়কির মত এলাকা জুড়ে বোমার বিকট শব্দে প্রকম্পিত করছে এলাকা। রেজাউল-জনি এবং ডাব্লু বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন-লুটপাট চলছে বেশুমার। তাদের এবারের শিকার এলাকার বিএনপি নেতা-কর্মী। কোন কারণ ছাড়ায় গত শুক্রবার রাতে এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করে ডাব্লুর নেতৃত্ব রেজাউল-জনি বাহিনীর সন্ত্রাসী বোমাবাজরা।

যাতে বাধা দিলে শুরু হয় বেপরোয়া মারপিট এবং বোমা সন্ত্রাস। বাজার থেকে শুরু করে সন্ত্রাসীদের বেমা হামলা এবং শনিবার দুপুর পর্যন্ত যুবদলের উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদের বাড়িতে বৃষ্টির মত বোমা হামলা করেছে রেজাউল-জনি এবং ডাব্লু বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।

এছাড়া এলাকাজুড়ে তাদের বোমা সন্ত্রাস চলছেই। যাতে এলাকার অসহায় মানুষ আতঙ্কের মাঝে দিনাতিপাত করলেও শার্শা থানা পুলিশ ঠুটো-জগন্নাথের ভূমিকা পালন করছে। রক্ষক ভক্ষক হওয়ার মত নিরীহ মানুষকে বোমাবাজদের হাত থেকে রক্ষা না করে বরং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ ব্যবস্থায় রেজাউল-জনি এবং ডাব্লু বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন মামলা না নিয়ে কার্যতঃ সন্ত্রাসী-বোমাবাজ ও লুটেরাদের শেল্টার দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, গত শুক্রবার রাত এবং শনিবার দুপুর পর্যন্ত কুখ্যাত ফেনসিডিল সম্রাট রেজাউল, সোনা পাচারকারী আলোচিত জনি এবং তাদের শিপাহশালার জিরেনগাছার সন্ত্রাসী ডাব্লুর নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের কন্যাদহ গ্রামে যুবদল নেতা ছোট শহীদের বাড়িতে বোমা হামলা করে।

ছোট শহীদের বাড়ি ছাড়াও আশে-পাশে বিএনপি ঘারাণার নিরীহ মানুষের বাড়িতেও অতর্কিত চলে এই বোমা তাণ্ডব। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। এরা হলেন, কন্যাদহ গ্রামের মোঃ মোক্তার আলীর ছেলে রমজান, হাবিবুর রহমানের ছেলে মিলন হোসেন, মতি গাইনের ছেলে হাসানুর, কিনা মোড়লের ছেলে আমিন মোড়ল, মৃত মতিয়ার গাইনের ছেলে শাহ আলম, রবিউল হোসেন ছেলে সাহেব আলী, মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে সোহাগ হোসেনসহ কয়েকজন।

ডাব্লুর নেতৃত্ব রেজাউল-জনি বাহিনীর সন্ত্রাসী বোমাবাজ আলম, আলা, বকুল, কালু, আব্বাস, একবার, শহিদুল, সাহেব আলী, আশিক, নয়ন, মহিদুল, কউসার, বাবু, ইয়াসিনসহ অন্তত ৩০/২৫ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ ব্যাপারে আহত রমজান জানান, ‘চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ডাব্লুর নেতৃত্বে রেজাউল-জনি বাহিনীর ক্যাডাররা বাজারে চাঁদাবাজি করতে আসে। তাদের বাধা দিলে শুরু বোমা হামলা। এর সাথে বেধড়ক মারপিট শুরু করে সন্ত্রাসীরা।

তারা বেছে বেছে বিএনপির লোকজনকে মারতে শুরু করে। এলাকার লোকজন বাধা দিলে তারা বেমা ছুড়তে ছুড়তে যুবদল নেতা ছোট শহীদের বাড়ির দিকে যায়। সেখানে গিয়ে শহীদের বাড়ির বাইরে-ভেতরে এবং বাড়ির প্রাচীরে আরও অন্তত ২৫/৩০টি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়। এদের তাণ্ডব ঠেকাতে এলাকার লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসে। এসময় তারা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। অদৃশ্য কারণে পুলিশ কাউকে আটক না করেই ফিরে আসে।

পুলিশি নিস্ক্রিয়তায় রেজাউল-জনি এবং ডাব্লু গং পরদিন সকালে ফের এলাকাবাসীর ওপর হামলা ও মারপিট করে। এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। মামলা না নেয়াসহ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানান, শনিবারও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ফেন্সি সম্রাট রেজাউল, সোনা পাচারকারী জনি এবং তাদের দোসর ডাব্লু বাহিনীর এলাকার লোকজনকে মারপিট করেছে। যাতে আহত হয়েছে অন্তত কয়েকজন।

তাদের অভিযোগ র্শাশা থানা পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই হামলা-মারপিটের ঘটনা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এমন কি জীবনহানির মত ঘটনাও ঘটতে পারে। এলাকাবাসী বলছেন, যেখানে জেলা বিএনপি বিবৃতি বলছে, রেজাউল গাইন, তার ভাই খোকন ও জনির সাথে বিএনপির কোন সম্পর্ক নেই। রেজাউল গাইন, তার ভাই খেকন

ও জনি কখনও বিএনপি ছিল না এখনও বিএনপি বা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠণের সাথে কোন সম্পর্কনেই। তারপরও কোন শক্তি বলে এই সন্ত্রসী চক্র এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর বোমা হামলা চালাচ্ছে সেটিই বড় প্রশ্ন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়