২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

রামপালে বিএনপির দু গ্রুপের পৃথক সংঘর্ষে আহত ২৪ #বাড়ি-দোকান-ঘের ভাংচুর

কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাটের রামপালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা পৃথক হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন আহত হয়েছেন। ঝনঝনিয়া, ভাগা, রোনসেন ও ভোজপাতিয়া এলাকায় এ হামলার সময় বাড়ি-দোকান-ঘের ভাংচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে ১১ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ২ জনকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে খুমেকে ভর্তি শহিদুলের অবস্থা আশংকাজনক। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রামপাল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক তুহিন গ্রুপ ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহিদ গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে ঝনঝনিয়া, ভাগা ও রোনসেন এলাকায় আইন-শৃংখলা বাহিনী কাজ করছে। লোহার রড, হাতুড়ী, লাঠি ও দা নিয়ে দুই পক্ষে পাল্টা-পাল্টি হামলায় ১৬ জন আহত হন। আহতরা হলেন, উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের আল আমিন (৪০), আজমল শেখ (৪৩), শহিদ ব্যাপারী (৩৬), আবুল কালাম (৪০), বাবুল শেখ (৩৫), শামীম শেখ (২২), আহম্মদ আলী (৪২), ইসমাইল শেখ (৩৫), আশরাফ আলী (৫৫), তাহিদুল ইসলাম (৪০), হোসাইন শেখ (১৮), তারেক শেখ (৩৫), ফারুক হোসেন (৫৫) আবুল কালাম (৩০)। মাহিদ শেখ (৫০)।

বাকীদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে আশরাফ ও কালাম রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাকীদের গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রামপাল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিএনপির কমিটি গঠনের কাজ চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রামপাল উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। তাতে দলের প্রকৃত ত্যাগীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। আর এ কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন রামপাল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হাফিজুর রহমান তুহিনের লোকজন। কারণ বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার আওয়ামী লীগের দোসরদের সাথে নিয়ে মহড়া ও দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন তুহিন। তার আওয়ামী প্রীতির কারণেই দলের প্রকৃত লোকজন তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি গঠনে ছিটকে পড়েন তারই লোকজন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে তিনি তার নিজের নেতৃত্বে বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলামসহ তার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি ও হয়রানী করে আসছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তুহিনের নেতৃত্বে তার নিজস্ব বিএনপি ও আওয়ামী দলবল নিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালায়। এতে ত্যাগী বিএনপির ৯ নেতা-কর্মী আহত হন। এসময় তুহিনের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ জাহিদের লোক মাহিদ ও মোহাম্মদের বাড়ীঘর, আহম ও আরিফ বিল্লাহর দোকানঘর এবং আকবর ওরফে আকোর ঘেরের বাসা ভাংচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে রামপাল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, উল্লেখিত অভিযোগ সম্পূন্য মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক। বরং আমি শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছি। ভাগার আকো ঝামেলা করছে। সে লোকজন নিয়ে রামপাল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারির পিতার দোকান ভাংচুর ও তার পিতাকে মারপিট করেছে। রামপাল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সেলিম রেজা বলেন, এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরআগে ভোজপাতিয়া ইউনিয়নে অনুরূপ আধিপত্যর দ্বন্ধে ৮ জন বিএনপি নেতা-কর্মী-সমর্থক আহত হন। এরমধ্যে দোকানে ঢুকে সোলাইমান, ইমরান, সোহাগ ও আসিককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এসময় নগদ ২২ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল ছিনিয়ে নেয় আলম, ইসমাইল, শওকাত, শরিফুল, ফারুক, বাইজিৎ, মোতালেব, জিল্লুর নেত্বৃত্বে প্রিন্স গ্রুপের হামলকারীরা বলে আহতরা অভিযোগ করেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়