১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে বিসিআইসির ১৫ ট্রাক ইউরিয়া সার চোরাইপথে বিক্রি ডিবির অভিযানে ৪২ লাখ টাকার সার উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

সৈকত হোসেন
যশোর অভয়নগরের নওয়াপাড়া থেকে ৪৮টি ট্রাকে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার টাকা মূল্যের ৩১ হাজার ৩৬০ বস্তা বিসিআইসির ইউরিয়া সার পাঠানো হয় ফরিদপুর টেপাখোলা বাফার গোডাউনে। কিন্তু ট্রাক চালকরা পারস্পারিক যোগসাজসে ১৫টি ট্রাকের ৭ হাজার ১৪০ বস্তা সার বিক্রি করে হজমের চেষ্টা করেন। তবে ৩ জনকে গ্রেফতার ও তাদের দেখানো বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ১৫ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নভো ট্রেড এন্ড ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান মিল্টন এই সার পাঠান। কিন্তু ৩৩টি ট্রাকের সার গন্তব্যে পৌঁছায়। বাকি ১৫টি ট্রাকের সার দীর্ঘ সময়েও ফরিদপুর টেপাখোলা বাফার গোডাউনে পৌঁছায়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনি ট্রাক চালকদের সাথে যোগাযোগ করেন কিন্তু নানা রকম তালবাহনা করায় তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে অভয়নগর থানায় মামলা করেন মোস্তাফিজুর রহমান মিল্টন। যার প্রেক্ষিতে যশোর পুলিশ সুপার রওনক জাহানের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার ও তাদের দেখানো বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মসাতকৃত সারের মধ্যে ৩ হাজার ১৫ বস্তা সার উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-যশোর সদরের চাউলিয়া বিশ্বাসপাড়ার নূর ইসলামের ছেলে মিলন হোসেন (৪৫), অভয়নগরের নওয়াপাড়ার কেরামত আলীর ছেলে মোঃ আবু বক্কার (৫০) ও বাঘারপাড়ার নারকেলবাড়িয়ার অনাথ সাহার ছেলে উজ্জল কুমার সাহা (৩৫)। আত্মসাতকৃত সর্বমোট ৭,১৪০ বস্তা বিসিআইসি ইউরিয়া সারের মুল্য ৯৯,৯৬,০০০ টাকা। এরমধ্যে উদ্ধার হয়েছে সর্বমোট ৩,০১৫ বস্তা। যার মূল্য ৪২ লাখ ২১ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তিতে ১৪ মার্চ বাঘারপাড়ার চতুরবাড়িয়া বাজার থেকে ৪৩৫ বস্তা ১৬ মার্চ শার্শার বাগআঁচড়া বাজার থেকে ৮০০, ১৭মার্চ যশোর সদরের পুলেরহাট বাজার থেকে ৪৬০ বস্তা এবং একইদিনে ঝিনাইদহ জেলার বারোবাজার হতে ৯২০ বস্তা ও ১৯ মার্চ মণিরামপুর উপজেলার জয়পুর গোপের বাজার থেকে ৪০০ বস্তা বিসিআইসির ইউরিয়া সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপার্দ করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে উদ্ধারকৃত সার প্রকৃত মালিকের জিম্মায় হস্তান্তর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়