৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

হাসপাতালের গাফিলতিতে করোনায় তিন মৃত্যু নেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা, জনমনে চরম উদ্বেগ

সৈকত হোসেন
যশোর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত তিন দিনে করোনা আইসিইউতে ভর্তি হওয়া তিনজন রোগীই মৃত্যুবরণ করেছেন। অথচ প্রশাসনিক বা চিকিৎসা ব্যবস্থায় নেই তেমন কোনো জরুরি তৎপরতা। সবকিছুতেই যেন একটা ‘গা-ছাড়া’ ভাব। নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে মৃত্যু সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এক নজরে ৩ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণকারী রোগীরা হচ্ছেন, সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা সাবিলা খাতুন (৫৫) । ১২ জুন করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। ২০ জুন বিকেলে আইসিইউতে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। মণিরামপুরের বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৪৫)। ১৩ জুন ভর্তি, ১৪ জুন আইসিইউতে স্থানান্তর এবং ১৯ জুন রাতে মৃত্যুবরণ। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই প্রাণ হারান। শেখ আমির হোসেন (৬৮) – কিডনি সমস্যা নিয়ে ৫ জুন ভর্তি, পরে করোনা উপসর্গে মৃত্যু ১৮ জুন। হাসপাতালের অবহেলা ও প্রস্তুতির অভাবের অভিযোগ উঠেছে। নেই সরকারি করোনা পরীক্ষা ব্যবস্থা। করোনা পরীক্ষার জন্য রোগীদের পাঠানো হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিকে, যেখানে খরচ বহন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। আইসিইউতে শয্যা থাকলেও নেই কার্যকর ব্যবস্থাপনা। যথাসময়ে অক্সিজেন সরবরাহ, পর্যাপ্ত মনিটরিং এবং চিকিৎসকের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
প্রতিরোধে নেই সচেতনতা প্রচার বা প্রস্তুতির তেমন কোন ব্যবস্থা। স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের মধ্যে নেই কোন জরুরি প্রস্তুতি বা নির্দেশনা বা সতর্কবার্তা। করোনা ইউনিটে নেই প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী, নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা আগ্রাসী সচেতনতামূলক প্রচারণা। জনগণের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, আইসিইউতে ভর্তি তিনজন রোগী মারা গেলেও কেন এখনো জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? এখনও সরকারি হাসপাতালে কেন আসেনি করোনা পরীক্ষার কিট। কেন এখনো সরকারি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা চালু করা হয়নি? কেন নেই গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন? এই মৃত্যুর মিছিল যেন লম্বা না হয়ে এখানেই যেন শেষ হয়, এই দাবি সাধারন মানুষের। স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যশোরেও ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের মতো বড় ধরনের করোনা বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। জনগণের সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ।
যশোর সদর হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা যেন মৃত্যু ডেকে আনছে, এই বাস্তবতা আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এখনই যদি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আরও একেকজন ইউসুফ, সাবিলা বা আমিররা প্রাণ হারাবেন। এটাই এখন সবার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ আর আতঙ্ক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়