মাগুরা প্রতিনিধি
সেনাবাহিনীর পৃথক দু’টি অভিযানে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি মিজানুর রহমান টিটো। সোমবার (৭ জুলাই) ভোররাতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল শ্রীপুরের নোহাটা ও তারাউজিয়াল গ্রামে অভিযান চালিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, রাত ২টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নোহাটা গ্রামে প্রথম দফা অভিযানে মিজানুর রহমান টিটো (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটি রিভলভার, ৮ রাউন্ড গুলি এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র। মিজানুর রহমান টিটো আওয়ামী লীগের শ্রীপুর থানা শাখার সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক কনক মোল্লার বড় ভাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মিজানুর রহমান টিটোর বিরুদ্ধে নাশকতা ও হত্যা মামলাসহ একাধিক ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। এর এক ঘণ্টা পর, মিজানুর রহমান টিটোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৩টার দিকে শ্রীপুরের তারাউজিয়াল গ্রামে দ্বিতীয় দফা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি চায়না তৈরি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলিসহ বিএনপি নেতা মো. শরিফুল ইসলাম সাচ্চুকে (৩৫) আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী। গ্রেফতার দুইজনকে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর শ্রীপুরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামে অস্ত্রধারীদের অবস্থান এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার অভিযোগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানিয়েছেন এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, একই রাতে বিএনপি নেতা সাচ্চুর বাড়িতে অভিযান চালালে তাঁর বাড়ি থেকে একটি চায়না পিস্তল ও তিনটি গুলি জব্দ করা হয়। এ সময় সাচ্চুকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘সাচ্চুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ কর্মী টিটোর নামেও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে।
