সুন্দর সাহা
যশোরের বেনাপোলে স্থল বন্দর চেকপোস্টে গড়ে ওঠা মাসুদ-সোবাহান-সাঈদ সিণ্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সব ঘাট ম্যানেজ করে মাসুদ গং শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য আনছে। আলোচিত এই সিণ্ডিকেটে রয়েছে বিতর্কিত সোর্স মাসুদ- দুর্ধর্ষ চোরাচালানী সোবাহান-আমদানি পণ্যের সাথে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের হোতা ইয়াকুব, কাস্টমসের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাঈদ, ল্যাগেজ তরিকুল, মাসুদের সিপাহশালার জিয়া-জনি ও জাহিদ গং। বিশেস বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে মাসুদের অপকর্মে লিপ্ত ল্যাগেজ সিন্ডিকেটের কারনে সরকার প্রতিদিন কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারালেও পকেট ভরছে ল্যাগেজ সিন্ডিকেটের হোতাসহ তাদের সহায়তাকারীরা। রক্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সীমান্তের এই পাচার সিন্ডিকেটগুলো হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। বেনাপোল সীমান্তে সোর্স মাসুদ-সোবাহান-ইয়াকুব-সাঈদ-তরিকুল-জিয়া-জনি-জাহিদ গং অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সবঘাট ম্যানেজ করে শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি-কোটি টাকা। আর এই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কোটি টাকা আদায় করছেন তাদের সহায়তাকারীরা। সীমান্তবাসীর অভিযোগ, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের সাথে কোটি কোটি টাকার অবৈধ পণ্য পাচার করে আনা হয়। ট্রাকে পণ্য বেনাপোলে প্রবেশের পর সোর্স মাসুদ, শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের হোতা ইয়াকুব, দুর্ধর্ষ চোরাচালানী সোবাহান, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাঈদ গং তৎপর হয়ে ওঠে। আমদানিকৃত পণ্যের ট্রাকে এবং ল্যাগেজ পার্টির মাধ্যমে আসছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ বিভিন্ন মালামাল। এ কাজে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি। অবৈধভাবে পাচার করে আনা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পণ্য সামগ্রী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আনা শাড়ী, থ্রিী-পিস, লেহেঙ্গা, সাটিং-শ্যুটিং, ইমিটেসন সামগ্রী, কম্বল, কিসমিস, বিভিন্ন প্রকার চকলেট, জিলেড গার্ড ব্লেড, তৈরি পোশাক, জিরা, ঔষধ এবং বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স পাচার করে আনছে এই চক্র। সারা বছর ধরে পণ্য পাচার করে আনছে এই চক্র। আমদানিকৃত পণ্যের ভারতীয় ট্রাক ছাড়াও ল্যাগেজের সিণ্ডিকেটে আসে বিপুল পরিমাণ পণ্য। ল্যাগেজ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টেকপোস্ট দিয়ে পাচার করে আনা কিছু পণ্য বিজিবি জব্দ করে। বাকি পণ্য রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলে আসে আলোচিত ও বিতর্কিত সোর্স মাসুদ- দুর্ধর্ষ চোরাচালানী সোবাহান- কাস্টমসের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাঈদ, ল্যাগেজ তরিকুল, মাসুদের সিপাহশালার জিয়া-জনি ও জাহিদ সিণ্ডিকেটের মাধ্যমে। এদের অপতৎপরতায় কোটি কোটি রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ল্যাগেজ পার্টির সদস্যরা কাস্টমস পার হয়ে আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টার্মিনালে পৌছালে এসব পণ্য ছাড় করে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে সোর্স মাসুদ। এরপর সোর্সের সিগন্যাল পেলে ল্যাগেজ পার্টির ব্যাগ তল্লাসী ছাড়াই পৌছে যায় গন্তব্যে। যারা এই ব্যবসায় জড়িত তাদের মাসুদের শরণাপন্ন হতে হয়। সবঘাট ম্যানেজ করতে তাদের ব্যাগ প্রতি ৩ হাজার টাকা খরচা লাগে। যারা টাকা দেয় না সোর্স মাসুদ সিণ্ডিকেটের সদস্যরা তাদের আনা পণ্য ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নিতে বিশেষ বাহিনীর সোর্স পরিচয় দেওয়া বিতর্কিত মাসুদ- দুর্ধর্ষ চোরাচালানী সোবাহান, আমদানি পণ্যের সাথে শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্রের হোতা ইয়াকুব, কাস্টমসের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সাঈদ, ল্যাগেজ তরিকুল, মাসুদের সিপাহশালার জিয়া ও জাহিদ গংসহ এসব সিণ্ডিকেটের ক্যাডাররা বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে। সূত্র জানায়, রক্ষকদের সহযোগিতা সোর্স মাসুদ রাতারাতি আঙুল ফুঁলে কলাগাছ বনে গেছে। আলোচিত এসব সিণ্ডিকেটের দৌরাত্মে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানিকৃত ট্রাকে করে পণ্য নিয়ে আসার কারণে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল আনে। ল্যাগেজ পার্টির দায়িত্ব হচ্ছে সোর্স মাসুদসহ সোবাহান-সাঈদ-তরিকুল-জিয়া-জনি-জাহিদ। বিজিবির স্ক্যান মেশিন থেকে শুরু করে বাইরের টেবিল পর্যন্ত সব দায়িত্ব মাসুদের। যত অবৈধ পণ্য আসবে সবই সোর্স মাসুদ সিণ্ডিকেটের। অবৈধ পণ্য আসার পর মাসুদের গ্রীণ সিগনালের অপেক্ষায় থাকতে হয়। তার সিগনাল পেলেই পণ্য পাচার শুরু হয়। আলোচিত সোর্স মাসুদের এসব অবৈধ কাজের সহযোগী রয়েছে আরো ১০/১৫ জন। এদের তৎপরতা চলে সিসি ক্যামেরার মধ্যেই। তারপরও অদৃশ্য কারণে তারা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া কাস্টমসের কারেন্ট মিস্ত্রি পরিচয় দানকারী সাঈদ হোসেন বর্ডারে কাস্টমসের সব লেনদেন করে। যেন সীমান্তে কাস্টমসের কাছ থেকে সাঈদ অবৈধ পণ্যের টাকা আদায়ের লিজ নিয়েছে। ল্যাগেজ তরিকুলের মাধ্যমে এসএ পরিবহনে মালামাল লোড দিয়ে গন্তব্যে পাঠানো হয়। সে সবসময় পাচারকৃত মালামালের সাথেই থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এদের পক্ষে থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে পকেট ভরছে। নগদ নারায়ণে তুষ্ট থাকায় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা এই চক্রের হোতাদের আটক করে না। সীমান্তের সব অর্গানগুলো সক্রিয় হলে এই চক্রকে রুখে দেয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু সেই অদৃশ্য কারণে বেড়ালের গলায় কেউ ঘন্টা বাধতে আসে না। সবাই ব্যস্ত আখের গোছাতে। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টরা তৎপর হলেই সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।

