১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

উদ্ভাবিত অ্যান্টিবায়োটিক ধ্বংস করল ‘সুপারবাগ’

প্রতিদিনের ডেস্ক
বিজ্ঞানীরা নতুন দুইটি অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছেন এবং এই কাজটি করেছে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহার করে। নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রতিরোধী গনোরিয়া ও এমআরএসএ (মেথিসিলিন-প্রতিরোধী স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস) মোকাবেলায় কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই ওষুধগুলোর ‘পরমাণু থেকে পরমাণু’ সম্পূর্ণভাবে এআই দিয়ে নকশা করা হয়েছে এবং ল্যাবরেটরি ও প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় সুপারবাগ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে গবেষকরা বিদ্যমান হাজার হাজার রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু গনোরিয়া ও এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়া নির্মূলে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিম নিজে সম্পূর্ণ নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের নকশা করেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল সেল-এ। গবেষকরা ৩.৬ কোটি রাসায়নিক যৌগ বিশ্লেষণ করেছেন। যেগুলোর অনেকগুলো এখনো বাস্তবে তৈরি হয়নি বা আবিষ্কৃত হয়নি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বিভিন্ন যৌগের রাসায়নিক গঠন ও ব্যাকটেরিয়ার ওপর তাদের প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নকশা করে। তারা দুটি ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। একটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছোট ছোট রাসায়নিক ফ্র্যাগমেন্ট থেকে শুরু করে ওষুধ তৈরি করে, অন্যটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নকশা করতে দেওয়া হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওষুধগুলোর বর্তমান অ্যান্টিবায়োটিকের মতো নয় এবং মানবদেহেও বিষাক্ত নয়। ওষুধগুলো আলাদা করে পরীক্ষায় নেওয়া হয়। এরপর তা ল্যাবরেটরিতে ব্যাকটেরিয়ার ওপর এবং সংক্রমিত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ওষুধ প্রতিরোধী ইনফেকশন প্রতিবছর ১০ লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াকে শক্তিশালী করে তুলছে, ফলে অনেক ওষুধ আর কাজ করছে না। তবে এখনই এই ওষুধগুলো বাজারে আসছে না। ওষুধের আরো উন্নয়ন ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করতে হবে এবং তা করতে কয়েক বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষক দলটি। তারা জানিয়েছেন, এই উদ্ভাবন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ‘দ্বিতীয় স্বর্ণযুগের’ সূচনা করতে পারে।ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ড. অ্যান্ড্রু এডওয়ার্ডস বলেন, ‘এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন অ্যান্টিবায়োটিক শনাক্ত করার এক অভিনব পদ্ধতি এটি।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নয়নে বিপ্লব আনতে পারলেও, ওষুধের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রচলিত কঠিন ধাপগুলো অতিক্রম করতে হবে।’–সূত্র : বিবিসি

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়