২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বাগেরহাটে মারা যাচ্ছে বাগদা চিংড়ি : দিশেহারা চাষিরা

কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
দেশের সাদা সোনা খ্যাত বাগেরহাটে বাগদা চিংড়ি ঘেরে ভয়াবহ মড়ক দেখা দিয়েছে। ভাইরাস, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং টানা বৃষ্টির কারণে ভরা মৌসুমেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। চাষিদের অভিযোগ, মানসম্মত পোনা সঙ্কটের পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ঘেরে চিংড়ি মারা যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। রামপালের চাকশ্রী বাজার এলাকার মৎস্য চাষি মো. শাহজাহান বলেন, “গত বছর এ সময় ঘের থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি চিংড়ি ধরতাম। এখন পানিতে জাল ফেললে তা খালি উঠে আসে। লাখ টাকার বাগদার পোনা ছেড়েছি, ঘেরে এখন শূন্য অবস্থা।” এই উপজেলার অপর চাষি সেলিম হোসেন বলেন, “আমাদের ঘেরে এখন যা অবস্থা, তাতে ঋণ শোধ করাই মুশকিল হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে বাগদা চাষ করা কঠিন হবে।” এ বিষয়ে জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির তৌহিদুর রহমান সুমন বলেন, “বাগদা চিংড়ি মারা যাওয়ার সঠিক কারণ উদঘাটনে আমরা চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতা চাচ্ছি। বিজ্ঞানভিত্তিক রোগ নির্ণয় ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।” বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘেরের পানি ও মাটি সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হবে। দ্রুত ফলাফল জানানো হবে, যাতে মৎস্য চাষিরা সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।” বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ভাইরাসের পাশাপাশি পানি স্বল্পতা, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে নোনা পানির চিংড়ি মারা যাচ্ছে। চাষিদের পরিকল্পিতভাবে পোনা নির্বাচন, ঘের প্রস্তুত এবং পানি ব্যবস্থাপনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” জেলা মৎস্য অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জেলায় ৫১ হাজার ১৫৯ হেক্টর জমিতে ৪৬ হাজার ৩১৩টি বাগদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। গত অর্থ বছরে এ জেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। তবে, এবার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক কম হওয়ার শঙ্কা করছেন চাষিরা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়