১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

দায়িত্ব ফিরে পাচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে তিনটি জাতীয় নির্বাচনসহ বেশ কিছু স্থানীয় নির্বাচনে যে লাগামহীন দুর্নীতি ও ভোট চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, তা আজ দিনের মতোই স্পষ্ট। আর এসব অনিয়ম রোধে সশস্ত্র বাহিনী যাতে কোনো ভূমিকা না রাখতে পারে, সে জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নির্বাচনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একজন আনসার সদস্যের যে ক্ষমতা ছিল, একজন সেনা সদস্যের তা-ও ছিল না। আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’ সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশবাসী বিশ্বাস করে, নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই বিশ্বাস থেকেই ২০০১ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আরপিও সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলো (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) বা সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নয়, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগুলোতেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তুর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার ওই সংশোধনী অধ্যাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলোকে বাদ দেয়।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গত ১১ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, তাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটিও রয়েছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি অনুসারে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে। এর ফলে নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতোই নির্বাচনী অপরাধের জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন।ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর সশস্ত্র বাহিনী আবার এই ক্ষমতাটি ফিরে পেতে যাচ্ছে।
আমাদের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে। ক্ষমতাসীনদের পাশাপাশি এখানে কালো টাকা ও পেশিশক্তি অনিয়মে বড় ভূমিকা পালন করে। সেসব নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা এবং ভূমিকাও থাকে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই মানুষ জাতীয় নির্বাচনসহ বড় পরিসরের স্থানীয় নির্বাচনেও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কামনা করে।এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক মহলও আশা করে আমাদের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। গত মঙ্গলবার ঢাকায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এই প্রত্যাশার কথা জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মঙ্গলবার অফিসার অ্যাড্রেসে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও আগামী নির্বাচনে সেনা সদস্যদের আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছেন।আমরা আশাবাদী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং তা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়