#সব অভিযোগ বানোয়াট-মিথ্যা দাবি জেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের
সুন্দর সাহা
হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেফাউর রহমানের বিরুদ্ধে। একই সাথে হাইকোর্টের ওই আদেশকে অগ্রাহ্য করে সরকারের প্রায় কোটি টাকা নয়-ছয় করেছেন খাদ্য বিভাগের ওই কর্মকর্তা। তবে ঠিকাদারদের এই অভিযোগ একতরফা-বানোয়াট-মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ডিসি ফুড সহ জেলার সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তারা। ঠিকাদারদের প্রাপ্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, যশোর জেলার খাদ্য বিভাগের অধীনে ১০টি এলএসডি খাদ্য গুদামের মাধ্যমে জেলার সরকারী বরাদ্ধের চাল ও ধান ক্রয় এবং বিলিবন্টন করা হয়ে থাকে। এই কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারী ভাবে শ্রম ও হস্তার্পণ ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হ্যান্ডলিং শ্রমিকের মাধ্যমে গুদাম গুলোতে খাদ্য ওঠানো নামানোর কাজটি করে। সরকারী দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে খুলনার দৌলতপুরের মেসার্স লোটাস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম রেজা ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরের ১০টি এলএসডি গোডাউনে হ্যান্ডলিং শ্রমিকের মাধ্যমে খাদ্যশষ্য ওঠা-নামানোর কাজটি করেন। কিন্তু তার পর থেকে অদ্যাবধি নানা কৌশলে জেলার বর্তমান খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান নতুন করে এসব গোডাউনে শ্রম ও হস্তার্পণ ঠিকাদার নিয়োগ না করে নিজে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে হ্যান্ডলিং শ্রমিকের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করে। যার নম্বর ১২২৭৪/২০২৪। মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত রিটপিটিশনটির শুনানী শেষে চলতি বছরের ১৪ মে নন-প্রসিকিউশন ঘোষনা করেন। এরও আগে অপর সংক্ষুব্ধ ঠিকাদার খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার মেসার্স ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান খাঁন ঠিকাদার নিয়োগ না করে দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে হ্যান্ডলিং শ্রমিক খাটানোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আরো একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর ৬৫১৭/২০২৫। মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত রিট পিটিশনের শুনানী শেষে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মাষ্টারোলের ভিত্তিতে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালনার ওপর ৩ মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। এই সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে ডিসি ফুড পূর্বের ন্যায় মাস্টারোল ভিত্তিতে জেলার ১০টি এলএসডি খাদ্য গুদামে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। বিষয়টি নিয়ে পূনরায় চলতি বছরের ১৫ জুলাই মহামান্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে অবহিত করলে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার দ্বৌত বেঞ্চ চলতি বছরের ৩০ জুলাই ৬৫১৭ নং রিট পিটিশনের শুনানী শেষে যশোর জেলার ১০টি এলএসডি খাদ্য গুদামে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম বন্ধে আরো ৩ মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের সেই আদেশকে পরোয়া না করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেফাউর রহমান নিজস্ব গতিতে জেলার ১০টি এলএসডি খাদ্য গুদামে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। একই সাথে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করানো হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের বিভিন্ন মাসের কাজের বকেয়া মজুরী বাবদ ৭৬ লাখ ২২ হাজার ২ টাকা ডিসি ফুড সেফাউর রহমান নিজ স্বাক্ষরে বিল ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন। যা খাদ্য অধিদপ্তরের আইনে এবং মহামন্য হাই কোর্টের নিষোধাজ্ঞা থাকায় তিনি পারেন না। অথচ আইনের তোয়াক্কা না করে তিনি খেয়াল খুশি মতো খাদ্য অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দিব্যি তা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে নানা অনিয়ম আর দূর্নীতি। এই বিভাগের অন্যান্য অনেক জেলায় ঠিকাদার নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে আইন মোতাবেক এলএসডি গোডাউন গুলোতে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ব্যতিক্রম যশোর জেলা। এই জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমান ঠিকাদার নিয়োগের কোন উদ্যোগ না নিয়ে বরং নিজেই উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রায় এক বছর ধরে জেলার ১০টি এলএসডি গোডাউনে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যা সরকারী আইনের চরম লংঘন বলছেন বাদী মিজানুর রহমান খান। একই ধরনের কথা বলেন মেসার্স লোটাস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম রেজা। তিনি বলেন, সরকারী বিধান হচ্ছে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সর্বশেষ নিয়োগকৃত ঠিকাদার এলএসডি গোডাউনে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ২০২১ সালের ৯ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সরবরাহ শাখা-২ এর উপ সচিব মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন ফঠকাদারদ্বয়। খুলনা বিভাগের বহু জেলার এলএসডি গোডাউনে সেই নিয়মেই শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ব্যতিক্রম যশোর জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক। তিনি নিজে ঠিকাদার সেজে জেলার ১০টি এলএসডি গোডাউনে মাষ্টারোল ভিত্তিতে শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একই সাথে সরকারী কাজের বিলের অর্থ এজি অফিস থেকে চেকের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা করে উদ্বৃত্ত টাকা ও লভ্যাংশ আত্নসাৎ করছেন। যা সরকারী চাকুরী বিধির চরম লংঘন এবং মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের স্পষ্ট অবমাননা। তবে ঠিকাদারদের এই অভিযোগ একতরফা এবং বানোয়াট বলে দাবি করেছেন জেলার সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তারা। অবৈধ এবং বাড়তি সুবিধা নিতেদিুই ঠিকাদার এই মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জেলার খাদ্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসি ফুড) সেফাউর রহমান বলেন, ঠিকাদারদ্বয়ের সব অভিযোগ একতরফা-বানোয়াট-মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যা করছেন তার সবই আইন মেনেই করা হয়েছে। হাইকোর্টের কোন আদেশ তিনি অমান্য করেননি। জেলার ১০টি এলএসডি গোডাউনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক শ্রম ও হস্তার্পণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এখানে আইনের কোন ব্যাত্যয় ঘটানো হয়নি।