১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

ঊর্ধ্বমুখী বাজারে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। চালের দাম বাড়তি। ডিম, আলু, পেঁয়াজ, তরিতরকারিসহ প্রায় সব পণ্যই এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রায় রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠে গেছে।
গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারত থেকে আমদানির প্রভাবে বাজারে পেঁয়াজের দামের ঝাঁজ কিছুটা কমলেও নতুন করে বেড়েছে কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, মসুর ডাল, খোলা আটা, মুরগি ও সবজির দাম আরো বেড়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাত থেকে অনেকটাই উঠে গেছে মাছ ও মাংস। গরিব মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে মূল ভরসা ডিমের দামও বাড়তি।জানা যায়, গত এক মাসে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক-দুটি বা হালিপ্রতি ডিমের দাম আরো বেশি। পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম আরো বেশি। খোলা আটা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।দেশি মসুর ডালের দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, যা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়ে আসছিল। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজারদরের তথ্যেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা, ডিম, ডাল, মুরগি ও সবজির দাম বাড়ার চিত্র দেখা গেছে।
সবজির দামও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গোল বেগুন মানভেদে ১২০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, টমেটো মানভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।
লম্বা লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির দামও বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের দাবি, বাজারে তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে ইচ্ছামতো মুনাফা লুটছেন। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছোট-বড় অসংখ্য চক্র বা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, যারা বাজার অস্থির করার যথেষ্ট ক্ষমতা অর্জন করেছে। সরকারের বাজার মনিটরিং কমিটি, টাস্কফোর্স, ভোক্তা অধিকার, প্রতিযোগিতা কমিশন, ট্যারিফ কমিশন—এসব সংস্থাকে আরো সক্রিয় হতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ আরো বাড়াতে হবে।
আমরা আশা করি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে সরকার অবিলম্বে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়