নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের হামিদপুরে জমি দখল ও লুটপাটের ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, তার ছেলে সামির ইসলাম পিয়াসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মেহেদী, ঘোপ পিলুখান সড়কের আশিক, বাগডাঙ্গা গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা রিফাত হোসেন, একই এলাকার সলেমান, সেলিম হোসেন, হামিদপুরের ময়েন উদ্দিন, ফতেপুরের মফিজ, শেকহাটির মিল্টন মোল্লা, হামিদপুরের নাসির মোল্লা ও নাজেম মোল্লা, এবং মোস্তাকিন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৭ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহিদুল ইসলাম মিলন ও তার ছেলে পিয়াসের নেতৃত্বে ১৫০–২০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে হামিদপুর গ্রামের আসাদুজ্জামানের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত ছিল। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে আসাদুজ্জামান ও তার দুই ছেলেকে মারধর করে এবং পরিবারের নারীদেরও প্রহার করে জখম করে। এরপর এস্কেভেটর দিয়ে তাদের আট রুমের ঘর ভেঙে ফেলে। ঘরে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র, গবাদিপশু ও ফসলসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। তদন্তে উঠে আসে, হামিদপুর মৌজার ২.৯৭ একর জমির মূল মালিক ছিলেন মৃত নুর ইসলাম। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় জমিটি নিলামে বিক্রি হয় এবং বাদী আসাদুজ্জামান তা ক্রয় করেন। কিন্তু জমির দাগ নম্বর ভুল থাকায় আদালতে মামলা করেন তিনি। অন্যদিকে, মৃত নুর ইসলামের বেয়াই শহিদুল ইসলাম মিলন ওই জমি দখলের জন্য পরিকল্পনা করেন। এর জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট আসাদুজ্জামান থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড হয়। পুলিশ বলছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

