দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলো অস্থির। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় একই অবস্থা। কোথাও শিক্ষার্থীরা নানা দাবিতে আন্দোলন করছে। কোথাও শিক্ষক-কর্মচারীরা দাবি নিয়ে রাস্তায় নামছেন।
ফলে ব্যাহত হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া। গতকাল একাধিক প্রতিবেদনে শিক্ষাজগতের এমন করুণ দশাই উঠে এসেছে।সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নানা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন আরো অর্ধডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরেক ধরনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে একজন শিক্ষার্থী ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবিতে চলছে আন্দোলন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নীতিমালা চূড়ান্তকরণ, রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে গত রবিবার প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে দেন শিক্ষার্থীরা।প্রায় আট ঘণ্টা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ ও শতভাগ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নামের আগে প্রকৌশলী লিখতে না দেওয়াসহ তিন দাবিতে গত মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে কর্মসূচি।গতকাল বুধবারও শাহবাগ মোড়ে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর দুপুর দেড়টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে রওনা হন শিক্ষার্থীরা। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে গেলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। অন্যদিকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের হেনস্তা এবং প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের অযৌক্তিক তিন দফা দাবির প্রতিবাদে গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ করেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তায় তাঁরা ওই কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে সাত দফা দাবি জানান।
দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও নানা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে ১৪ সেপ্টেম্বর সারা দেশে প্রতিটি এমপিওভুক্ত স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে অর্ধদিবস কর্মবিরতি এবং ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। এর পরও দাবি না মানা হলে ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আগামী ৩০ আগস্ট ঢাকায় মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলছে এমনই আরো অনেক কর্মসূচি।
প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। এভাবে চলতে পারে না, চলা উচিত নয়। অতি দ্রুত শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

