১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

কালীগঞ্জে আদালতের রায় অমান্য করে বোনের জমির গাছ কেটে নিল ভাই

সোহেল আহমেদ, কালিগঞ্জ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আদালতের দেওয়া ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে বোনের পৈত্রিক ফারাজের প্রায় ৯ শতাংশ জমির বড় ২টি রেইনট্রি গাছ কেটে বিক্রয় এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ উপজেলার পারখিদ্দা গ্রামে। মারধরের ঘটনায় গত ২৩ আগষ্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভূক্তভোগী বোন ।জানা গেছে, উপজেলার পারখিদ্দা গ্রামের মৃত আব্দুল গণী বিশ্বাসের ১ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে মোছা রোকেয়া বেগম (৫৫) ছোট। আনুমানিক ৩০ বছর আগে গাছ কেটে নেওয়া জমিতে রোকেয়া বেগমের স্বামী মৃত শাহজান শেখ কয়েকটি রেইনট্রি গাছ রোপন করেন। এরমধ্যে ২ টি গাছ বেঁচে যায়, যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ হাজার টাকা। কয়েক বছর আগে রোকেয়া বেগমের পিতা গনি বিশ^াস জিবীত থাকা অবস্থায় সন্তানদের সম্মতিতে প্রত্যেককে জমি ভাগ করে দেন। সে হিসাবে ৯ শতাংশ জমি পান রোকেয়া বেগম । জমিটি তখন থেকে রোকেয়া বেগমের নামে রেকর্ড ও ভোগ দখলে আছে । কিন্তু হঠাত করে গত মাসে ভাই আবুল কাশেম দাবি করেন ওই জমির বড় ২ টি রেইনট্রি গাছ তার। রোকেয়া বেগম বলেন, গত মাসের ২২ আগষ্ট আমরা জানতে পারি ওই জমির গাছগুলো আমার ভাই আবুল কাশেম বিক্রয় করবে। জানার পর আমার ছেলে বেল্টু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। স্থানীয়রা আমাদের জানান এক সপ্তাহ পর একটা ওঠা বসা করে মিমাংসা করা হবে বিন্তু তার আগেই গত ২৩ তারিখে আমার ভাই আবুল কাশেম লোকজন নিয়ে ২ টা রেইনট্রি গাছ জোরপূর্বক কেটে নেয়। এ সময় আমি আমার ছেলে এবং মেয়ে বাধা দিতে গেলে ভাই আবুল কশেম, তার ছেলে রুবেল, আমার চাচাতো ভাই ইউসূফ এবং তার ছেলে ইসমাইলসহ ৪/৫ জন আমাদের মারধর করে আহত করে। পরে স্থানীয়রা সহায়তায় আমারা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই । ওই দিন (২৩ আগষ্ট) কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি । অভিযোগ পেয়ে পুলিশ আবুল কাশেমকে গাছ মারতে নিষেধ করেন। পুলিশের নিষেধ উপেক্ষা করে দুইদিন পর আবার গাছ কাটা শুরু করে। বিষয়টি উপজেলার তত্তিপুর ফাড়ির আইসি এসআই শামিমকে জানালে তিনি আমাদের আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করে আনতে বলেন। আইসির পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা কাগজ থানায় জমা দিই। তারপর ১৪৪ ধারা উপেক্ষা গাছ ২ টি বিক্রয় করেন আবুল কাশেম। তত্তিপুর ফাঁড়ির আইসি এসআই শামিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি রোকেয়া বেগমের ভাই আবুল কাশেমকে গাছ কাটতে নিষেধ করি। জবাবে আবুল কাশেম বলেন আমার বাবার হাতের লাগানো গাছ আমি বিক্রয় করবো তাতে আপনি বাধা দেবেন কেন। তারা আমার নিধেষও শোনেনি। আবুল কাশেম স্থানীয়দের কথারও কোন কর্নপাত করেননি। উপায়ন্ত না পেয়ে আমি রোকেয়া বেগমের ছেলে বেল্টুকে আদালত থেকে ১৪৪ ধারার পরামর্শ দিই। তারা আদালত থেকে ১৪৪ ধারা আনলে আমি বিষয়টি আবুল কাশেম জানায় এরপরও তা মানেননি। বর্তমানে বিষয়টি আমি মিমাংসা করার চেষ্ঠা করছি।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়