# নেপথ্যে সোবাহান-মাসুদ-বিল্লাল-আজিজ-তরিকুল-মিনার-ইয়াকুব সিন্ডিকেট
সুন্দর সাহা
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল বন্দরে কাভার্ডভ্যান ভর্তি ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ী, থ্রি পিচ, ঔষধ, মোটর সাইকেলের টায়ার এবং বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী আটক করেছে যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সদস্যরা। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ১২ টার দিকে বেনাপোল বন্দরের বাইপাস সড়কে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র বিহীন এ পণ্যের চালানটি আটক করা হয়। ভারত থেকে দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত পণ্যের ট্রাকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসছে কোটি কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য। এ কাজে সংঘবদ্ধ একটি চক্র বেজায় তৎপর। এদের শীর্ষে রয়েছে আলোচিত চোরাচালানী ও পাচারকারী সোবাহান-মাসুদ- বিল্লাল-আজিজ-তরিকুল-মিনার-ইয়াকুব সিন্ডিকেট। বিষয়টি সবারই জানা তারপরও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্টরা নিরব বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির অভিযানে প্রতিদিন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে পাচার করে নিয়ে আসা লাখ-লাখ টাকার পণ্য আটক হচ্ছে। তারপরও চোরাচালানী মাসুদ-সোবাহান-বিল্লাল- ইয়াকুব-তরিকুল-জিয়া-মুন্না গংয়ের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাগজপত্রবিহীন ভারতীয় পণ্যপাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম থামছেই না। মহল বিশেষের সহায়তায় সিন্ডিকেটের হোতারা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। তবে এবার যশোর ৪৯ বিজিবির সফল অভিযানে এই সিণ্ডিকেটের আড়াই কোটি টাকার পণ্য চালান জব্দ হয়েছে। আটক হয়েছে অবৈধ পণ্য বহণকারী কাভার্ডভ্যানের চালক ও হেলপার। বিজিবি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকীর দেওয়া তথ্যে ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য পাচার রোধে বেনাপোল বিওপি’র বিশেষ চোরাচালান বিরোধী একটি টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বেনাপোল বন্দরের বাইপাস সড়কে মাগুরা কার্গো সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যান ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৫ ৬৬ তল্লাশির জন্য থামানো হয়। পরে কাভার্ডভ্যানটি তল্লাশির জন্য বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পে আনা হয়। তল্লাশিকালে ভারতীয় শাড়ী ১৪৭৬ টি, থ্রীপিচ ২১৫ টি, মোটর সাইকেলের টায়ার ২ টি, বিভিন্ন প্রকার ঔষধ ১০ হাজার ৬৯৩ টি এবং ৭৪ হাজার ৪৫৫টি বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রীর বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় জব্দ তা করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৫৫ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ টাকা। আটক কাভার্ডভ্যানের চালক ও হেলপার মাগুরা সদর থানার নাদের মোল্লার ছেলে আঃ মালেক (৪৬) এবং শুশান্ত কর্মকারের ছেলে অন্তর কর্মকার (২৯) বেনাপোলের নামাজ গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে চুক্তি করে পণ্য চালানটি ঢাকার মিরপুর নিয়ে যাচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকের চালক ও তার সহকারী জানিয়েছেন, বেনাপোলের নামাজ গ্রামের মো. বিল্লালের সঙ্গে ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে এসব মালামাল বেনাপোল থেকে ঢাকার মিরপুনে নেওয়া হচ্ছিল। জব্দ করা মালামালসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানান, আসন্ন দূর্গা পূজা উপলক্ষে ভারত হতে কাগজপত্র বিহীন মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে এ ধরনের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বেনাপোল বাইপাস সড়ক থেকে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করা হয়। আটককৃত কাভার্ডভ্যাননে থাকা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী, থ্রি পিচ, ঔষধ, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত চালক ও হেলপারকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
সীমান্তের সূত্রগুলো জানায়, বেনাপোলের আলোচিত সোবাহান-মাসুদ- বিল্লাল-আজিজ-তরিকুল-মিনার-ইয়াকুব সিন্ডিকেট সব ঘাট ম্যানেজ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন কাগজ-পত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য আমদানিকৃত পণ্যের ট্রাকের ওপরে নিয়ে আসছে। এই চক্রের কারণে সরকার প্রতিদিন কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারালেও পকেট ভরছে পাচার ও চোরাচালান সিণ্ডিকেটের হোতাসহ তাদের সহায়তাকারীরা। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সীমান্তের এই পাচার সিন্ডিকেটগুলো হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। বেনাপোল সীমান্তে কুখ্যাত চোরাচালানী সোবাহান, মাসুদ, আজিজ, মিনার, মাসুদের প্রধান সিপাহশালার পণ্য পাচারকারী তরিকুল, বিল্লাল, ইয়াকুব, জিয়া ১৫/২০ জনের সিণ্ডিকেট রয়েছে সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, চোরাচালানী মাসুদ, সোবাহান, বিল্লাল, আজিজ, মিনার, তরিকুল, ইয়াকুব, জিয়া প্রতিদিন সবঘাট ম্যানেজ করে শক্তিশালী এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা। এদিকে, এই সিন্ডিকেটের সহায়তাকারীরা তাদের কাছ হাতিয়ে নিচ্ছেন কাড়ি কাড়ি টাকা। সীমান্তবাসীর অভিযোগ, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের সাথে দেদারসে আসছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ মালামাল। এ কাজে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি। অবৈধভাবে পাচার করে আনা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পণ্য সামগ্রী। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আনা শাড়ী, থ্রিী-পিস, লেহেঙ্গা, সাটিং-শ্যুটিং, ইমিটেসন সামগ্রী, কম্বল, কিসমিস, বিভিন্ন প্রকার চকলেট, জিলেড গার্ড ব্লেড, তৈরি পোশাক, জিরা, ঔষধ এবং বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স পাচার করে আনছে এই চক্র। যার মধ্যে সোমবার রাতে বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে যশোর ৪৯ বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আড়াইকোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় ভারতীয় শাড়ী, থ্রি পিচ, ঔষধ, মোটর সাইকেলের টায়ার এবং বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী আটক করেছে।
সূত্র জানায়, চোরাচালানী ও পাচারকারী সিণ্ডিকেটের মাধ্যমে ভারতীয় ট্রাকের আমদানিকৃত পণ্যের উপরে আসে বিপুল পরিমান এসব অবৈধ পণ্য। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পণ্য এভাবে ভারত থেকে পাচার করে আনা হচ্ছে। চোরাচালানী সোবাহান, মাসুদ, বিল্লাল, আজিজ, মিনার, তরিকুল, ইয়াকুব, জিয়া পাচার সিন্ডিকেটের সদস্যরা বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে ট্রাক প্রবেশের পর স্কেল টার্মিনাল বা শেডে ট্রাক আগেই অবৈধভাবে আনা পণ্য নামিয়ে এসব পণ্য নেয়া হয় কুখ্যাত আওয়ামী ক্যাডার ইয়াকুবের বাড়িসহ তার পাশের কয়েকটি বাড়িতে। এরপর এসব পণ্য পাচার করে সোর্স মাসুদের সিপাহশালার তরিকুল-জনি ও জিয়ার মাধ্যমে পাঠানো হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। বিল্লাল ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান সরবরাহ করে। এভাবেই তারা হাতিয়ে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকা। এই চক্রের দৌরাত্মের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকা শুল্ক হারাচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য নিয়ে আসার কারণে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। স্থল বন্দরের বেনাপোলের আলোচিত চোরাচালানী মাসুদ, সোবাহান, বিল্লাল, আজিজ, মিনার, তরিকুল, ইয়াকুব, জিয়া পাচার সিন্ডিকেটের কারণে বনে যাচ্ছে কোটিপতি। স্থানীয়দের দাবি দেয়া বিতর্কিত চোরাচালানী সোবাহান, মাসুদ, বিল্লাল, আজিজ, মিনার, তরিকুল, ইয়াকুব, জিয়া আটক করে আইনের আওতায় আসলেই এই সিণ্ডিকেটের দৌরাত্ম কমবে। সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল আনে। এসব মালামালের অধিকাংশ পাচার করা হয় এসএ পরিবহনসহ বিভিন্ন পরিবহণের মাধ্যমে। তবে অবৈধ মালের পরিমাণ বেশি হলে ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানে করে গন্তব্যে পাচার করা হয় স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এদের পক্ষে থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে পকেট ভরছে বলে এই চক্র বেপরোয়া উঠেছে। নগদ নারায়ণে তুষ্ট থাকায় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশও এই চক্রের কাউকে আটক করে না। অথচ বেনাপোল পোর্ট স্থাপন করা হয়েছে বন্দরের মালামাল সুরক্ষিত রাখাসহ এসব অসাধু চক্রের অপতৎপরতা থামানোর জন্য। শুধু বিজিবির অভিযানে এই চক্রকে রুখে দেয়া যাবে না। এই সিণ্ডিকেটের হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তের সব অর্গানগুলো সমানভাবে সক্রিয় হয়ে একযোগে কাজ করার কোন বিকল্প নেই বলে সীমান্তবাসী অভিমত। তাহলেই সীমান্ত ও বন্দরের অবৈধ পণ্য পাচার কমবে, সাথে সাথে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে বাড়বে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ।