প্রতিদিনের ডেস্ক
১৯৪৭ সালে মার্কিন বিজ্ঞাপন সংস্থা এনডব্লিউ আয়ার তৈরি করে কিংবদন্তি স্লোগান- ‘A Diamond is Forever’। এটি হীরাকে প্রেম ও বাগদানের প্রতীক হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা করে। সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও সেলিব্রিটিদের গহনার মাধ্যমে ধারণাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১০ শতাংশ কনে হীরার আংটি পেতেন, যা ১৯৮০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ শতাংশে। জাপানে ১৯৬০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫ শতাংশেরও কম, যা ১৯৮১ সালে ৬০ শতাংশে পৌঁছায়। ১৯৫০-এর দশকে একটি হীরার আংটির গড় দাম ছিল ১৭০ ডলার। ডি বিয়ার্স শুরুতে এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ খরচের পরামর্শ দিলেও ১৯৮০-এর দশকে বিজ্ঞাপন প্রচারণায় বলা হয়-‘কীভাবে দুই মাসের বেতন চিরকাল টিকে থাকতে পারে?’ ১৯৭০-এর দশক নাগাদ ডি বিয়ার্স বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ক্যারাট হীরা বিতরণ করত। তবে একই সময়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে ওঠে কার্টেল আচরণ ও বর্ণবাদী শ্রমনীতি বজায় রাখার অভিযোগ। ১৯৯০-এর দশকে আরও বড় আঘাত আসে যখন প্রকাশিত হয়, আঙ্গোলা, সিয়েরা লিওন ও কঙ্গোর গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীরা হীরা বিক্রি করে অস্ত্র কিনছে। এতে ‘ব্লাড ডায়মন্ডস’ শব্দটির প্রচলন ঘটে। ডি বিয়ার্স সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়ে। ফলস্বরূপ, ১৯৯৯ সালে কোম্পানির বিক্রি ৫.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০০১ সালে নেমে আসে ৪.৪৫ বিলিয়ন ডলারে। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে তাদের সিএসও ভেঙে যায় এবং একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ শেষ হয়। সমালোচনার জবাবে ২০০৩ সালে ডি বিয়ার্স কিম্বারলি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সহায়তা করে, যাতে হীরার উৎস যাচাই করা যায় এবং সংঘর্ষপূর্ণ অঞ্চলের হীরা বাজারে ঢুকতে না পারে।

