কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
ফেসবুকে দেওয়া একটি সচেতনতামূলক পোস্টকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের সাংবাদিক এএসএম হায়াত উদ্দিনকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর আশুলিয়া পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে আদালতে সোপর্দ করার পর তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ওমর ফারুক ওরফে ইমন হাওলাদার (২৫) এবং মো. আশিকুল ইসলাম ওরফে আশিক (২৫)। তারা দুজনই বাগেরহাট সদর উপজেলার গোপালকাটি গ্রামের বাসিন্দা। বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই স্নেহাশিস দাশ বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অবস্থানরত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আসামিরা জানিয়েছে, সাংবাদিক হায়াত উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দেন। ওই পোস্টের বিষয়বস্তু নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলাকারীরা গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে চাপাতি, রামদা, ছুরি, লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হায়াত উদ্দিনের মাথা, ঘাড়, পাঁজর, পেট ও পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রবিবার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক হায়াতের মা হাসিনা বেগম।

