১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

চুয়াডাঙ্গায় বাড়ছে স্ক্যাবিস সংক্রমণ, ওষুধ সংকটে বিপাকে রোগীরা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিসের সংক্রমণ। শিশু, নারী, বয়স্ক সব বয়সি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন এই রোগে। জেলার সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, নতুন ও পুরোনো ভবনের করিডোর ও বারান্দা জুড়ে রোগীর উপচে পড়া ভিড়। চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে লম্বা লাইন, অনেকে দাঁড়িয়ে বা মেঝেতে বসে অপেক্ষা করছেন চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালের কর্মীরা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী খোস-পাঁচড়া ও অন্যান্য চর্মরোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় অনেককে বাইরে থেকে ক্রিম, লোশন ও ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি মজুত থাকা ওষুধের মধ্যে সীমিত পরিমাণে হিস্টাসিন ট্যাবলেট রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী খোস-পাঁচড়া ও অন্যান্য চর্মরোগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় অনেককে বাইরে থেকে ক্রিম, লোশন ও ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি মজুত থাকা ওষুধের মধ্যে সীমিত পরিমাণে হিস্টাসিন ট্যাবলেট রয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা পারভীনা খাতুন বলেন, হাতে চুলকানি দিয়ে শুরু, এখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। গায়ে ছোট ছোট লাল দানা ওঠে, চুলকানি অসহ্য হয়ে যায়। ডাক্তার ওষুধ লিখেছেন, কিন্তু বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে এতে কষ্ট হচ্ছে। রোগী হাসেম আলী বলেন, রাতে চুলকানি আরও বেড়ে যায়, ঘুমানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে। হাসপাতালে সব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। সদর উপজেলার মোছা. রিনা বেগম বলেন, প্রথমে ছেলেটার হাতে চুলকানি হয়েছিল, এখন পুরো পরিবার আক্রান্ত। রাতে কেউ ঘুমাতে পারি না। আলমডাঙ্গার রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে ভেবেছিলাম সামান্য সমস্যা, এখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই হাসপাতালে আসতে হলো। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্যাবিসের প্রাথমিক উপসর্গ হলো হাত-পায়ের আঙুলের ফাঁক ও শরীরের ভাঁজে চুলকানি, যা রাতে বেড়ে যায়। আক্রান্ত স্থানে ক্ষত হলে সেকেন্ডারি সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া, নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার কাপড় ব্যবহারই এখন সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লাইলা শামীমা শারমিন বলেন, স্ক্যাবিস অত্যন্ত ছোঁয়াচে চর্মরোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে, না হলে সংক্রমণ ফিরে আসে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে কিডনিসহ ত্বকের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, আগে শুধু গরমের সময় এই রোগ বেশি দেখা যেত, এখন প্রায় সারা বছরই হচ্ছে। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন, এতে জটিলতা বাড়ছে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, কাপড় ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চললেই সংক্রমণ রোধ সম্ভব।চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, স্ক্যাবিস ও দাউদ দুটিই সংক্রামক রোগ। আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগেও এই রোগ ছিল, তবে এখন বাজারের ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণ বাড়ছে। আমরা রোগীদের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি এবং সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ওষুধ দিচ্ছি। তবে এখন যথেষ্ট ওষুধ বরাদ্দ আছে। সরকারিভাবে বরাদ্দ নেই এমন ওষুধ লিখলে সেটা আমরা দিতে পারছি না। সেটা হয়ত রোগীদের বাইরের মেডিসিন দোকান থেকে কিনতে হচ্ছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়