১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

চৌগাছায় পাটের ফলন ও দাম পেয়ে খুশি কৃষক

এম এ রহিম, চৌগাছা
পাটের ফলন ও দাম পেয়ে বেজায় খুশি যশোরের চৌগাছা উপজেলার কৃষকরা। সোনালি আঁশ খ্যাত পাট চাষে এ বছর বিঘাপ্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ হচ্ছে কৃষকের। সোনালী আশ কৃষকের মুখে হাঁসি ফুটিয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে এ এলাকার কৃষকদের। এ বছর আবহাওয়া পাট চাষে বেশ অনুকুলে থাকায় পটে ব্যাপক ফলন হয়েছে। এদিকে বাজারেও কাক্সিক্ষত মূল্য পওয়ায় কৃষকরা খুশি। এমতাবস্থায় পাটকল গুলো সরকারি ভাবে চালু করার দাবি এ অঞ্চলের পাট চাষিদের। উপজেলার ফুলসারা, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, চৌগাছা সদর, পাতিবিলা, জগদিশপুর, হাকিমপুর, নারায়নপুর, স্বরুপদাহ, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, পাট জাগ দেওয়া, পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দেড়শ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। অতিমাত্রায় বৃষ্টি হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ও ভালো হয়েছে। পাটের বীজ বপন থেকে শুরু করে বিক্রয় পর্যন্ত প্রস্তুত করতে অন্যান্য বছরের তুলনায় খরচও এবার কম হয়েছে। তাতে করে বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩০/৪০ হাজার টাকা লাভবান হচ্ছে চাষিদের। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর তোষা জিআরও ৫২৪ ও রবি ৮ জাতের পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১৮শ ২০ হেক্টর। সেখানে চাষ হয়েছে ১৯শ ৫ হেক্টর জমিতে। প্রতি বিঘা জমিতে পাটের ফলন হয়েছে ১২ থেকে ১৫ মণ। প্রকারভেদে বাজারে পাট প্রতি মণ তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খরচের তুলনায় বাজারে পাটের দাম বেশী হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন তারা। ফলে পাট চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছে কৃষকরা। এমতাবস্থায় পাট জাত দ্রব্য ব্যবহার ও বন্ধ মিল-কলকারখানাগুলো সরকারি ভাবে চালু করার জোর দাবি চাষিদের। উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক জহির উদ্দীন জানান, এ বছর পাট চাষে করে আমরা লাভের মুখ দেখেছি। এক বিঘা পাট চাষ করতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। কিন্তু পাটের ফলন ভালো ও ন্যায্য দাম হওয়ায় খুশি কৃষক। আর প্রতি বিঘায় ফলনও হচ্ছে ১৫ মণের বেশি। এদিকে পাট খড়ির চাহিদাও বেশ। এক আটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৫শ আটি পাট খড়ি হয়। এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগে সুবিধা হয়েছে। ভাসা পানিতে জাগ দেওয়ায় পাটের রং ও গুণগত মান ভালো হয়েছে। পাট ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার অঅরো কমানো ও পাটজাত পণ্যে ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশে পাট রপ্তানিতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ অবস্থার আরো পরিবর্তন ঘটবে। চৌগাছা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, পাট চাষে খরচ কমাতে ও ফলন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ কারিগরি বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। সরকারিভাবে পাট ক্রয় শুরু হলে কৃষক আরো লাভবান হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়