১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

নাদিয়া নওশাদের অনুগল্প বসুমতি ক্যাফেটেরিয়া

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ব্যস্ত নগরী ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বিস্তৃত এক লেকের পাশে ছোট্ট পরিসরে গড়ে উঠেছে বসুমতি ক্যাফেটেরিয়া। প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুল ইসলাম একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। দু’বছর হলো অবসরে গেছেন। তখন থেকেই তার এ ক্যাফেটেরিয়ার পথচলা শুরু।বসুমতি ক্যাফেটেরিয়া নানারকম খাদ্য আয়োজনে ভরপুর। মাছের কাটলেট, ডিমের ডেভিল, ক্যারামেল পুডিং অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। তাছাড়া বিফ চাপ, চিকেন চাপ, রুমালি রুটি ও কড়াই গোশত খেতে লাজাওয়াব! চায়ের মধ্যে মালাই চা, আদা-লেবু চা, হেজেলনাট কফিও কাস্টমারদের বিশেষ পছন্দ।ক্যাফেটেরিয়ার বাবুর্চি সোবহান তার দুজন সহকারী বেলাল ও মনিরকে নিয়ে অসাধারণ কাজ করেন। তাদের হাতে যেন সত্যিই জাদু আছে! যে একবার বসুমতি ক্যাফেটেরিয়ার খাবার খেয়েছেন, মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বারবার ছুটে এসেছেন।এখানে যে শুধু ক্যাফেটেরিয়া আছে তা নয়, খুবই ছোটখাটো একটা বুক কর্নারও বিদ্যমান। ছোটদের গল্পের বই, বিভিন্ন সাপ্তাহিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন যেমন- আনন্দলোক, সানন্দা, মনোজগত, ক্যানভাস ইত্যাদি খাবারের সাথে সাথে বিক্রি হয়। নানা বয়সের, নানা মতের মানুষের মিলনমেলা ঘটে বসুমতি ক্যাফেটেরিয়ায়। মূলত বিকেলবেলার নরম রোদের উষ্ণ আবহাওয়ায় নারী-পুরুষ, বন্ধু-বান্ধবীর কলরবে ক্যাফেটেরিয়াটি মুখরিত হয়ে ওঠে।ব্যবসায় যেমন সাফল্য আছে; তেমনই লোকসানও আছে। একবার কিছু চাঁদাবাজ, দুষ্ট লোক ক্যাফেটেরিয়ায় এসে চাঁদার দাবিতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তখন হাবিবুল ইসলাম সাহেবের অনেক লোকসান হয়। একটু ঘুরে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই মহামারি করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে দেশ।সবমিলিয়ে ক্যাফেটেরিয়াটি প্রবল ঝড়ের আশঙ্কায় পড়ে। জীবনযুদ্ধে চড়াই-উৎরাই, উত্থান-পতন আসবেই। তবুও হাল ছেড়ে না দিয়ে মনোবল ও সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যেতে হয়। হাবিবুল ইসলাম, সোবহান, বেলাল, মনিরের অদম্য, অক্লান্ত চেষ্টা ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে আরও একবার সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বসুমতি ক্যাফেটেরিয়া।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়