১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৭ পরিবারে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক

আবারও সেই রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। রাজধানীর মিরপুর রূপনগরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় গত মঙ্গলবার সকালে পাশাপাশি থাকা রাসায়নিক গুদাম ও পোশাক কারখানায় মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকে। এর আগে ২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে এমনই আরেক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। এতে মারা গিয়েছিল শতাধিক মানুষ। ২০১৯ সালে পুরান ঢাকার চকবাজারে রাসায়নিক গুদামের অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জনের মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডের আরো অনেক ঘটনাই ঘটেছে এর মধ্যে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও তাঁরা কারখানায় এসেছিলেন কাজ করতে। আশা ছিল দিনশেষে হাসিমুখে ফিরে যাবেন পরিবার-পরিজন, সন্তানদের কাছে। কিন্তু না, ফেরা আর হলো না। মুহূর্তের মধ্যে আগুন তাঁদের জীবন কেড়ে নিল। তাঁদের দেহগুলো অঙ্গার করে দিল। দেহগুলো এমনভাবে পুড়েছে যে পরিচয়ও শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং সাতজন নারীর মৃতদেহ রয়েছে। স্বজনরা জানান, অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সারা দিনই স্বজনরা এলাকায় আহাজারি করেছেন। অনেকে তাঁদের প্রিয় মানুষটির ছবি নিয়ে ঘুরছেন, কিন্তু কোনো হদিস পাচ্ছেন না। মিরপুরের অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে সারা দেশের মানুষ রীতিমতো স্তম্ভিত। একটিই প্রশ্ন সবার—রাসায়নিকের গুদামের অগ্নিকাণ্ডে শত শত অসহায় মানুষের জীবন গেলেও কেন তার প্রতিকার হচ্ছে না? ২০১৯ সালের চকবাজার ট্র্যাজেডির পর বলা হয়েছিল, আবাসিক এলাকায় আর কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের গুদাম বা কারখানা থাকবে না। ছয় মাসের মধ্যে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকায় থাকা সব গুদাম ও কারখানা কেরানীগঞ্জের স্থায়ী রাসায়নিকপল্লীতে সরিয়ে নেওয়া হবে। সরেনি। ছয় বছর পর একই ঘটনা ঘটল মিরপুরে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাসায়নিকের গুদাম থেকে বিকট বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দ্রুত পাশের তিনতলা কারখানায় ছড়িয়ে যায়। সঙ্গে ছিল রাসায়নিকের বিষাক্ত ধোঁয়া। তখন কারখানাটির এক থেকে তিন তলায় এক শর মতো শ্রমিক কাজ করছিলেন। গেট তালাবদ্ধ থাকায় তাঁরা বের হতে পারেননি। শুধু রাসায়নিকের গুদাম নয়, আগুনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আরো বহু ধরনের স্থাপনা রয়েছে। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ড, বেইলি রোড, মগবাজারের অগ্নিকাণ্ডের কথা মানুষ ভুলে যায়নি। জানা যায়, গত প্রায় দেড় যুগে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৬৮ জনের। ফায়ার সার্ভিসের হালনাগাদ তথ্য বলছে, রাজধানীতেই দুই হাজার ৬০০ অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। তালিকায় রয়েছে বিপণিবিতান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভবনসহ নানা প্রতিষ্ঠান। ফায়ার সার্ভিস ঢাকার সব ভবন পরিদর্শনও করতে পারেনি। ফলে মোট ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা আরো বেশি হবে। কিন্তু ঝুঁকিরোধে কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা কি আছে? থাকলে মিরপুরে পোশাক কারখানার পাশে রাসায়নিকের গুদাম থাকে কী করে? মিরপুরের শোকাবহ ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরো অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা এ ধরনের শোকাবহ অগ্নিদুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। রাজধানীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রাসায়নিক গুদামের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মিরপুরে হতাহতদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়