১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

যশোরে ভৈরবপাড় দখলমুক্তকরণে যৌথ অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সীমানা পিলার স্থাপনের সাথে চলছে কাটাতারের ঘেরা দেয়ার কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের দড়াটানার ভৈরবপাড় এলাকা দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান বিকেল পর্যন্ত চলমান ছিল। যশোর সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ভ্রাম্যমাণ আদালতে অংশ নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা। অভিযান চলাকালে ভৈরবপাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সীমানা পিলার বসানো ও কাটাতার দিয়ে নদীর তীর ঘেরার কাজ শুরু হয়। অভিযানের শুরুতে ভৈরব হোটেলের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাত ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র দোকানগুলোও উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানিক দল পরে ভৈরব হোটেলের সংলগ্ন নদীর পাড়ে গিয়ে দেখতে পান, ভৈরব হোটেলসহ আশপাশের বেশ কিছু বেসরকারি হাসপাতাল সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা টোঙ দোকান বসিয়ে জায়গা দখল করে রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় আড্ডা ও মাদকসেবনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলে। অভিযান চলাকালে এসব দোকান ও স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালের পেছনের অংশে নদীর জায়গা দখল করে জেনারেটর রুম নির্মাণ ও দোকান ভাড়া দেওয়ার ঘটনাও নজরে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নিতে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। পরে ভৈরব চত্বরের আশপাশের ফুটপাতের দোকান, রাজধানী হোটেলের সামনের অংশ, জনি হোটেলের বর্ধিত অংশও ভেঙে ফেলা হয়। সরকারি জায়গায় নির্মিত জনি হোটেলের সিঁড়ি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে পরিচালিত ফরমালিনমুক্ত সবজি বিক্রির স্টলটিও উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো প্রকার পূর্বনোটিশ ছাড়াই তাদের দোকান ভেঙে দিয়েছে। এতে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থার দাবি জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, “বহুবার নোটিশ দেওয়ার পরও দখলদাররা জায়গা খালি করেনি। তাই জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় আমরা বাধ্য হয়ে অভিযান শুরু করেছি। মানুষ নদীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এবার আমরা সেই জায়গা জনগণের জন্য ফিরিয়ে দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “প্রথম ধাপে কাটাতার দিয়ে নদীর জায়গা ঘিরে ফেলা হবে। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ ও বিনোদনমূলক ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভৈরব চত্বরের বিপরীত পাশের দখলকৃত স্থানগুলোও সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে উচ্ছেদ করা হবে।” প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী সবাইকে স্বেচ্ছায় নদীর জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়