১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

শনিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের কার্গো ভিলেজ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়লে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা স্থগিত রাখা হয়। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিটের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং রোবটের ব্যবহার সত্ত্বেও সাত ঘণ্টা লেগে যায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা কোটি কোটি টাকার পণ্য বা শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুড়ে যায় জরুরি ‘কাগজপত্র’ও। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কি পয়েন্ট ইনস্টলেশনের অন্যতম (কেপিআই) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানে অগ্নিনির্বাপণের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। অগ্নিনির্বাপণে উল্লেখযোগ্য জনবলও রয়েছে। নিয়মিতভাবে অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া হয়। ডামি স্থাপনায় বা ডামি উড়োজাহাজে আগুন লাগিয়ে অত্যন্ত দর্শনীয় কায়দায় ‘সফলভাবে’ সেগুলো নেভানো হয়। কিন্তু বাস্তবে যখন আগুন লাগল, তখন প্রায় কিছুই করা গেল না। আগুনের ক্ষয়ক্ষতি এখনো নিরূপণ করা যায়নি।
তবে সেই অঙ্ক যে বিপুল হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার চেয়েও বড় ক্ষতি হলো আমাদের ভাবমূর্তির। আমাদের বিমানবন্দরের অগ্নিনিরাপত্তা যে কতটা নাজুক, তা দেখেছে গোটা বিশ্ব। এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, কার্গো ভিলেজের আগুন আমাদের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার মারাত্মক দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। একটি কেপিআইভুক্ত এলাকায় এত দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেখানে রাসায়নিক ও দাহ্য পদার্থ মজুদ থাকে, সেখানে পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা চরম অবহেলার দিকটিই প্রমাণ করে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজসহ অন্যান্য অগ্নিকাণ্ডে নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এনবিআর। এদিকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সম্প্রতি আরো দুটি বড় ও রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিক্যাল কম্পানির গুদামে আগুন লাগে। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরের শিয়ালবাড়ী এলাকায় পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। ঢাকার নিমতলী ও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা মানুষ এখনো ভোলেনি। বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন। এর আগে তাজরীন গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ডে অনেক প্রাণহানি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত বছর দেশে ২৬ হাজারের বেশি স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে কেপিআই ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ১২৯টি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও ভয়াবহতা ক্রমেই বাড়ছে। সেই তুলনায় অগ্নিপ্রতিরোধে আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে না। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। বহুতল ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও অগ্নিনির্বাপণের সক্ষমতা অনেক বাড়াতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়