১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

আরপিওর সংশোধিত খসড়া অনুমোদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি যেমন এগিয়ে চলেছে, তেমনি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রস্তুতিও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। অতীতের সংসদ নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয় হয়ে উঠেছিল নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) প্রয়োজনীয় সংশোধন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গত বৃহস্পতিবার আরপিওর সংশোধিত খসড়া অনুমোদন করেছে। সংশোধিত খসড়া অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) দায়িত্ব পালন করবে, মামলায় পলাতক কোনো আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না, জোটের শরিক দলগুলোকে নিজেদের প্রতীকে ভোট করতে হবে, নির্বাচনে ‘না ভোট’সহ আরো কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। জানা যায়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আরপিও সংশোধন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগগুলো বা সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার ওই সংশোধনী অধ্যাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ বাদ দেয়। ইসি গত ১১ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করে, তাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি অনুসারেই এই প্রস্তাবটি ইসির সভায় অনুমোদন করা হয়। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদে ইসির আরপিও সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের পর তা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে। এর ফলে নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মতোই নির্বাচনী অপরাধের জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন। ১৬ বছর পর সশস্ত্র বাহিনী এই ক্ষমতাটি আবারও ফিরে পেতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ঢাকার তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। অনুমোদন দেওয়া সংশোধিত আরপিওর খসড়ায় আরো যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্পর্কিত যেসব বিধান রয়েছে, তা বিলুপ্ত করা; নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে তাঁদের দেশি ও বিদেশি আয়ের উৎস, সম্পত্তির বিবরণ ও আর্থিক তথ্য ইসিতে জমা দিতে হবে এবং এসব তথ্য ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ তা জানতে পারে। এ ছাড়া প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গত দেড় দশকে দেশে নির্বাচনের নামে রীতিমতো প্রহসন হয়েছে।
মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। আসন্ন নির্বাচন যেন মানুষের কাছে সর্বোচ্চ প্রত্যাশিত নির্বাচন হয়, সেই লক্ষ্যে নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধানের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়