১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

বিরতি চান লিটন; কিন্তু বিরতিই কি সমাধান?

প্রতিদিনের ডেস্ক
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ঢাকার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ। প্রিয় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স নিয়ে বিশেষ করে ব্যাটারদের চরম বাজে যাচ্ছেতাই, শ্রী-হীন, লাগামহীন ও দায়িত্বহীন ব্যাটিং দেখে হতাশ ভক্তরা।
হোম অব ক্রিকেটের ‘কালো’ রঙয়ের স্লো, লো ও টার্নিং পিচে ২- ১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও শেষ ম্যাচে সৌম্য-সাইফের ব্যাটিং ছাড়া সামগ্রিকভাবে ব্যাটিং ভাল হয়নি। গত ২৩ অক্টোবর শেষ ও সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে শেরে বাংলার উইকেট ছিল তুলনামূলক স্পোর্টিং। আর তাতে প্রথম চাপমুক্ত পরিবেশে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন দুই টাইগার ওপেনার সৌম্য ও সাইফ।সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে কাজে লাগানোসহ ওপেনারদের কাছ থেকে যেমন ব্যাটিং প্রত্যাশা করা হয় সেই ম্যাচে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ঠিক সেই ব্যাটিংটাই করেছেন। স্বচ্ছন্দে, সাবলীল ঢংয়ে বাহারি চটকদার মারের অনুপম প্রদর্শনী ঘটিয়েছেন সৌম্য ও সাইফ। সেই ফ্রি স্ট্রোক প্লে আর উত্তাল উইলোবাজির মুখে উড়ে যায় ক্যারিবীয় বোলিং। বাংলাদেশ পায় ১৭৬ রানের (২৫.২ ওভারে) বিরাট ও শক্ত ভীত; কিন্তু অবাক করা সত্য হলো সৌম্য আর সাইফের সেই সাহস, আত্মবিশ্বাস, আস্থায় মেশানো হাত খুলে খেলাটা খেলতে পারেননি বাকি ব্যাটাররা।
তাওহিদ হৃদয়, শান্ত, অঙ্কন, মিরাজ , রিশাদ ও নাসুমরা যথারীতি ব্যর্থতার ঘানি টানলেন। তারপরও সৌম্য-সাইফের প্রথম উইকেটে তুলে দেয়া ১৭৬ রানের বড় জুটির ওপর ভর করে রান গিয়ে ঠেকে ২৯৬-এ। বোলারদের দাপুটে পারফরমেন্সে ধরা দেয় ১৭৯ রানের জয়।কিন্তু চট্টগ্রামে ফরম্যাট বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। সবাই ছন্নছাড়া। লক্ষ্য-পরিকল্পনার বালাই নেই। কে কার চেয়ে খারাপ খেলতে পারেন, যেন সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সবাই। পরিণতি হলো করুন; ৩-০ ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়াশ।ব্যাটারদের ব্যাটিং নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন অনেকে। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুল এমনকি বোর্ড কর্মকর্তা নাজমুল আবেদিন ফাহিমও এমনটাই বলেছেন। তাদের মত, বাংলাদেশের ব্যাটাররা একটা ফরম্যাট থেকে অন্য ফরম্যাটে গিয়েই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। মেলাতে পারেন না।লাল বলে ৫ দিনের টেস্ট খেলার পর সাদা বলে করনীয় কাজ করতে গিয়ে করনীয় কাজ বুঝে উঠতে পারেন না। আবার ৫০ ওভারের খেলা খেলে ২০ ওভারের ফরম্যাটের ধরন, গতি, প্রকৃতি ও ছন্দর সাথে তাল মেলাতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এবারও তাই দেখা গেল। ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেই ছন্দপতন, ‘লেজেগোবরে।’কিন্তু বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস ওসবের ধার কাছ দিয়ে যেতে নারাজ। তার অনুভব, উপলব্ধি, আসলে ক্রিকেটারা টানা খেলায় ক্লান্ত। অবসাদগ্রস্ত। তাদের অবসরগত শুক্রবার ক্যারিবীয়দের কাছে ধবল ধোলাইয়ের পর প্রেস কনফারেন্সে কথা বলতে গিয়ে লিটন বিশ্রাম ও বিরতির কথাও বলেন।এখানকার খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রমাণ করেছে। তারা জাতীয় দলে অনেক দিন ধরে খেলছে। একটা সিরিজ বাজে যেতে পারে। তবে যেই খেলোয়াড়েরা খেলেছে, সবাই নিজেদের প্রমাণ করেছে। দুয়েকজন সব সময় ভালো করে। আমার মনে হয় বিরতিটাও গুরুত্বপূর্ন আমার মনে হয়, তারা একটু ক্লান্ত আছে। বিরতির পরে আবার তারা চাঙ্গা হয়ে আসবে এবং ভালো মতোই খেলবে।’এদিকে ক্রিকেটারদের বিরতি পাবারও সুযোগ নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষেও বিশ্রাম আর বিরতি মিলবে না।
ক্যারিবীয়রা ফিরে যেতেই আগামী কয়েকদিন পর চলে আসবে আয়ারল্যান্ড। ১১ নভেম্বর থেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আইরিশদের সাথে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও অংশ নেবে টাইগাররা। গোটা ক্রিকেট বিশ্বের ক্যালেন্ডার কিন্তু এমনই।সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের জন্য আইসিসির বেঁধে দেয়া ভবিষ্যত ট্যুর সিডিউল (এফটিপি) থাকে। অর্থ্যাৎ, দ্বি-পাক্ষিক সিরিজ এবং বিভিন্ন মহাদেশীয় ও বিশ্ব আসরেও অংশ নিতে হয়। এর সাথে ঘরোয়া আসরতো থাকেই। আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সব দেশের জাতীয় দল এমন টানা খেলার মধ্যেই থাকে।কাজেই বিশ্রাম ও বিরতি কিন্তু মিলবেনা। এ স্বল্প সময়ের মধ্যে আবার টেস্ট খেলারও প্রস্তুতিও নিতে হবে। তারপর আবার টি-টোয়েন্টি। একটা টেস্ট খেলিয়ে দেশের পথ পরিক্রমা এমনই। তাই নিজেদের তৈরি করার দায়িত্বটা নিতে হবে ক্রিকেটারদেরকেই। বিরতির কথা বলে পার পাবার কিন্তু অবকাশ নেই।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়