১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

সহিংসতার ভয়াবহ বিস্তার

দেশজুড়ে সহিংসতার ভয়াবহতার বিস্তার প্রতিদিনের সংবাদে পরিণত হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন রয়েছে। খুলনায় বিএনপি কার্যালয়ে বোমা ও গুলিতে একজন নিহত, মুন্সীগঞ্জ, পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে অনেক হত্যাকাণ্ড। একই সঙ্গে ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে মব সন্ত্রাস ও গণপিটুনি।মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে গত ১৪ মাসে দেশে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ২১৬ জন। সংখ্যাটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ও আইনি কাঠামোর চরম অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি।মানুষ ক্রমেই যেন হিংস্র হয়ে উঠছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে চোর সন্দেহে ইলেকট্রিশিয়ান বাবুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।গাইবান্ধায় গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষ অতি দ্রুত আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রশমিত করতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া অত্যাবশ্যক।পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের চিত্রও সমান উদ্বেগজনক।
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ৫৩ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে এবং মোট ২৩১ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য হত্যা—এই তালিকা সমাজের নৈতিক অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে।আদালত ও বিচারব্যবস্থা থাকার পরও মানুষ যখন আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, তখন বুঝতে হবে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষ। এই প্রবণতা শুধু আইন-শৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং সামাজিক নৈতিকতারও চূড়ান্ত পতন। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে এমন এক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিজেই অসহায়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক সহিংসতা বা উগ্র মানসিকতার বিস্তার।
এই অবস্থায় মব সন্ত্রাসকে রাজনৈতিকভাবে সহনশীল বা নীরবভাবে বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিতে হবে। যেকোনো ধরনের আইনহীনতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে। দ্রুত তদন্ত, দৃশ্যমান বিচার ও কঠোর শাস্তি ছাড়া এই অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা থামানো সম্ভব নয়। একজন নাগরিক যখন রাস্তায় নামতে নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করে কিংবা একজন নিরপরাধ মানুষ শুধু সন্দেহের বশে জীবন হারায়, তখন রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সামনে নির্বাচন। সময় যত নিকটবর্তী হবে, রাজনৈতিক সন্ত্রাস তত বাড়বে। আর সাধারণ অপরাধীরাও পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে এখন থেকে কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়