দেশে এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করায় সেই হাওয়া আরো জোরদার হয়েছে। অন্তত ২৩৭টি আসনে এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে রেখেছে।খুব শিগগির প্রকাশ করা হতে পারে। তালিকা প্রকাশ না করলেও তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন। অন্যান্য দলও শিগগিরই হয় জোটগতভাবে না হয় দলীয়ভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এসবের মধ্য দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্রমে আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে যেতে শুরু করেছে।বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কিছুদিন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের আলোচনায়ও এখন প্রাধান্য পাচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। তা সত্ত্বেও নির্বাচন নিয়ে অনেকেই এখনো শঙ্কা প্রকাশ করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠেছে কোনো কোনো মহল থেকে নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
দু-একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আবারও জানিয়েছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন এবং সে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর।রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গত সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় জরুরি বৈঠকে বসেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। দীর্ঘ বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা। যেকোনো সময় বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম এটি পরিবর্তন করতে পারে। আর যেসব আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি, সেগুলো পরে ঘোষণা করা হবে। এর বাইরে কিছু আসন শরিকদের জন্য ছাড়া হবে।’ জানা যায়, ২৩৭টি আসনের বাইরে যে ৬৩টি আসন রয়েছে, তার মধ্যে আরো ২৩টি আসনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হতে পারে। বাকি ৪০টি আসন পেতে পারেন জোট ও যুগপৎ আন্দোলনের নেতারা।সোমবার প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পরপরই কিছু আসনে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এটা নতুন কিছু নয়। প্রতিবারই সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন নিয়ে এ ধরনের ঘটনা দেখা যায়। বিশেষ করে বড় দলগুলোতে প্রতিটি আসনে অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকেন। কিন্তু একটি আসনে যেহেতু একজনকেই মনোনয়ন দিতে হয়, তাই বাকিরা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।নির্বাচক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে দলগুলো বিভক্ত। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, পরিস্থিতি ততই খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

