১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

নির্বাচনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগের সময় সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণে মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন বাবলা নামে একজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন প্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহসহ চারজন। গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইরফানুল হক শান্ত এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আমিনুল ও মর্তুজা হক। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগরীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দলটির নেতারা মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ওই সময় বিএনপি নেতারা বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী গণসংযোগ পরিচালনার সময় উগ্র ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। মিছিল শেষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা জামায়াত-শিবিরের কাজ। আমরা যতটুকু জানি, ওরাই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ সরওয়ার বাবলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাবলা আমাদের কেউ না। নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকেই যেতে পারে।’ জামায়াত অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গত বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে কেউ যেন ফাউল গেম খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।’ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। সারা দেশেই বেড়েছে খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, ছিনতাই, লুটতরাজ, অপহরণ, জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের ঘটনা। বাড়ছে নদী, জলাশয়, ঝোপঝাড় থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা। গতকালের কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কক্সবাজারের টেকনাফে আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের উপজেলা সভাপতিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বগুড়ায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এক অটোরিকশাচালককে। এ ছাড়া গাইবান্ধায় গরু ব্যবসায়ী ও টাঙ্গাইলে এক বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে। বাগেরহাটে পাওয়া গেছে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর মরদেহ। প্রতিদিনই ঘটছে এমন বহু খুনের ঘটনা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পাশাপাশি সাধারণ অপরাধীদের তৎপরতাও বাড়তে পারে। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়