১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

পি.আর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির দাবিতে ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যানুপাতিক (পি.আর) পদ্ধতির নির্বাচন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে যশোরে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে জেলা শাখার সভাপতি মিয়া মো. আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আলহাজ মোহাম্মদ আলী সরদারের পরিচালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং যশোর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা মো. শোয়াইব হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা শোয়াইব হোসেন বলেন, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচনে পেশিশক্তি, কালো টাকা, কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, সহিংসতা, অরাজকতা—এসবের কোনো সুযোগ থাকে না। নিবন্ধিত প্রায় সব দলের ভোটের অনুপাতে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়, ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত কমে আসে। এতে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের ৯১টির বেশি দেশে বিভিন্নভাবে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে এবং বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেনসহ বিভিন্ন দেশে শতভাগ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সভাপতি মিয়া মো. আব্দুল হালিম বলেন, জুলাই সনদের লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্রের অবসান ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এবং এই পদ্ধতি স্বৈরশাসনমুক্ত একটি রাজনৈতিক পরিবেশ নির্মাণে সহায়ক হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল পিআর পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করছে। সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আরও নেতারা বক্তব্য দেন—এডভোকেট নুর ইসলাম, ভাইস-প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি এইচএম মহসিন, হাফেজ আব্দুর রশিদ, মাও. আশিক বিল্লাহ, মো. কামরুজ্জামান, মুফতি মঈন উদ্দিন, এটিএম আখতারুজ্জামান তাজু, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মুস্তাফিজুর রহমান মুন্না, আলহাজ্ব আব্দুল মতিন বিশ্বাস, অলিউর রহমানসহ জেলা ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি দড়াটানা ভৈরব চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সমাপ্ত হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচ দফা দাবি: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও সেই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজন। জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ। ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা। জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের দাবি রাখা হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়