১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

জুলাই সনদ নিয়ে আদেশ জারি

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ গত বৃহস্পতিবার জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই দিনে আইন মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কিছু বিষয়ের আপাত মীমাংসা হয়েছে, যদিও এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তা সত্ত্বেও আশা করা হচ্ছে, এর ফলে বহুল প্রত্যাশিত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হবে। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ হয়। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়। গত ১৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। সনদে ২৫টি দল ও জোট স্বাক্ষর করে। এনসিপি সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন সুপারিশ না দেখে স্বাক্ষর করবে না বলে কমিশনকে জানায়। চারটি বামপন্থী দল সাত দফা দাবি তুলে ধরে স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকে। এই অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর বাস্তবায়ন সুপারিশসহ জুলাই সনদ সরকারের কাছে হস্তান্তর করে ঐকমত্য কমিশন। কিন্তু এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। সনদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বাদ দিয়ে গণভোটের প্রস্তাবে রীতিমতো ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বড় জটিলতা তৈরি হয় গণভোটের সময় নিয়ে। বিএনপিসহ বেশির ভাগ দল সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠানের দাবি জানায়। জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠানসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে থাকে। এই অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গত বুধবার বৈঠক করে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরপর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবিগুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে কোনো এক দলের সব দাবি পূরণ হয়নি, আবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে আলোচনা ছাড়াই কিছু প্রস্তাব এই আদেশে যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণ‌ভোট একই ‌দি‌নে আয়োজনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর দাবি পূরণ হলেও গণ‌ভো‌টে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি ও ভিন্নমত) রাখার দাবি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়নি। জামায়া‌তে ইসলামীর প্রধান দাবি ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট’ গ্রহণ করা হয়নি। ত‌বে পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠ‌ন পদ্ধ‌তি এবং সাংবিধা‌নিক প্রতিষ্ঠা‌নে নি‌য়ো‌গে ‘নোট অব ডি‌সেন্ট’ না রাখার দা‌বি পূরণ হ‌য়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের কথা পুনর্ব্যক্ত করায় এবং একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণা দেওয়ায় বিএনপি একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। যদিও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা নিজের সই করা জুলাই জাতীয় সনদ নিজেই লঙ্ঘন করেছেন। জামায়াতে ইসলামী বলেছে, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে ও একই দিনে আয়োজনের ঘোষণায় জন-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। আমরা আশা করি, দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলো এবার নির্বাচনমুখী হবে। দেশ দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়