১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

জুলাই সনদ নিয়ে মতভেদ বাড়ছে

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভেদ ও অনৈক্য বাড়ছে। আর তা কিছুটা হলেও উসকে দিচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাস আলোচনার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করেছিল। পাঁচটি দল ছাড়া আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো সেই সনদে স্বাক্ষরও করেছে। কিন্তু কমিশন সরকারের কাছে যে সনদ উপস্থাপন করেছে, তাতে মতৈক্য না হওয়া, এমনকি আলোচনা না হওয়া বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সনদ বাস্তবায়নের আদেশ, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাব, তা নিয়ে গণভোট এবং একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা—প্রায় সবকিছু নিয়েই বিভেদ, মতভেদ ও অনৈক্য তীব্র হয়ে উঠেছে। নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে যেভাবে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, তাতে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না। তাঁরা বলেছেন, যে নজিরবিহীনভাবে এই আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘আইনের ব্যাকরণ অনুসারে জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। এরই মধ্যে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ যদি আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনে বাতিল করে দেওয়া হয়, তাহলে কী হবে। সংসদ তো সার্বভৌম। রাষ্ট্রপতির আদেশ অধ্যাদেশ বাতিলের ক্ষমতা তো সংসদের আছে।’ সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ আদেশ যেভাবে জারি হয়েছে, এর নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। বিদ্যমান সংবিধান অনুসারে এ ধরনের আদেশ জারির এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই।’ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠানের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে রাজনৈতিক দলের মতেরই প্রতিফলন ঘটেছে। তবে এই আদেশকে কেন্দ্র করে নানা সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নামে এ ধরনের আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট ও এখতিয়ারের বাইরে।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘এখন গণভোট অপ্রয়োজনীয়। প্রয়োজনে গণভোট হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর। এ বিষয়ে আগামী সংসদ সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পর মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে গণভোট হতে পারে।’ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এটি এখন একটি অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য সমাধান।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন হয়ে যাবে না, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনও হয়ে যাবে না। তার জন্য অবশ্যই জাতীয় সংসদ গঠিত হতে হবে।’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘সরকার জুলাই সনদের যে আদেশ জারি করেছে, তা জনবিরোধী।’ আমরা আশা করি, দেশ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়