১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ 

গণভোটের অধ্যাদেশ জারি

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুই মাসের মতো বাকি। গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ অনুমোদিত হয় এবং মঙ্গলবার রাতেই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।এ সময় জানানো হয়, কিছু কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রের ফলাফলের ভিত্তিতে গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমন বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।
সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানান, সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতেই গণভোট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ ৩০ দফায় যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে বলেও জানান তিনি। আইন উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য যেসব ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হবে, সেখানেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতকৃত ভোটার তালিকা গণভোটেও ব্যবহৃত হবে। জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময়ই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে গণভোটের ব্যালট আলাদা রঙের করা হবে।গণভোটে চারটি প্রস্তাবের ওপর একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে ভোটারদের।
প্রশ্নটি হবে, আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন? ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাতে হবে।সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যেভাবে গণভোটের কথা বলা হয়েছে, তাতে জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না। তাঁরা বলেন, যে চার প্রস্তাব বা প্রশ্নে গণভোট হতে যাচ্ছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের জানা-বোঝার বাইরে। আগের গণভোটগুলো এত জটিল ছিল না। এবার চার প্রস্তাবের মধ্যে আরো অনেক বিষয় আছে এবং সেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে। এই অবস্থায় একটি প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ মতামত জানানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া ভোটারদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হলে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া যে নজিরবিহীনভাবে এই আদেশ জারি করা হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে।আমরা আশা করি, ঘোষিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দেশ ও জাতি দ্রুত একটি নির্বাচিত সরকার পাবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়